অবশেষে শাস্তি পাবে আর জি কর ধর্ষণ ও খুন মামলার মূল অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়! সোমবার ঘোষণা হবে সাজা!

৯ই অগস্ট সেই অভিশপ্ত দিন, যেদিন কলকাতায় ঘটেছিল এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। আর জি কর হাসপাতালের চেস্ট মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক ধর্ষণ ও খুন হয়েছিলেন। এই মামলায় বিচারপক্রিয়া শুরু হয়েছিল গত বছরের ১১ই নভেম্বর থেকে। এরপরই সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়কে মূল অভিযুক্ত হিসেবে গ্রেফতার করেছিল টালা থানার পুলিশ। আজ সেই মামলার শুনানি হলে সঞ্জয় ঘোষকে মূল দোষী হিসেবে সাব্যস্ত করে শিয়ালদহ আদালতের বিচারক অনির্বান দাস। আগামী সোমবার দুপুর ১২:৩০ টায় আর জি কর মামলার ধৃত সঞ্জয় রায় এর উদ্দেশ্য সাজা ঘোষণা হবে বলে জানা গিয়েছে।

সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়েরকে বিচারক বলেন, ‘‘সিবিআই এবং সাক্ষীদের বয়ানের ভিত্তিতে যা মনে হয়েছে তাতে দোষী সাব্যস্ত করব আপনাকে। আপনার সর্বোচ্চ শাস্তি হতে পারে মৃত্যুদণ্ড।’’ সেটা শুনে সঞ্জয় বলেন, ‘‘আমি কিছু করিনি। আমার গলায় রুদ্রাক্ষের মালা। আমার কথাটা এক বার শুনুন।’’ বিচারক রায় ঘোষণা করে বলে দেন, ‘‘সোমবার আপনার কথা শুনব।’’ রায় শুনে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি নির্যাতিতার বাবা। তিনি বিচারকের উদ্দেশে বলেন, ‘‘আপনার উপর যে আস্থা ছিল, তার পূর্ণ মর্যাদা দিয়েছেন।’’ বিচারক দাস প্রত্যুত্তরে বলেন, ‘‘সোমবার আসুন।’’

আরজি কর-কাণ্ডে একমাত্র অভিযুক্ত হিসাবে সঞ্জয়ের নাম করেছিল সিবিআই। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৬৪ (ধর্ষণ), ৬৬ (ধর্ষণের পর মৃত্যু) এবং ১০৩(১) (খুন) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে অভিযুক্ত সঞ্জয়কে। ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনাটি ঘটার প্রায় ৫৯ দিনের মাথায় শুরু হয়েছিল বিচারপর্ব। সেই বিচার-পর্ব শেষ করে ১৬২ দিনের মাথায় রায় ঘোষণা করল আদালত। গত ৯ই অগস্ট অর্থাৎ ঘটনার দিনও রাতের বেলায় ‘ডিউটি’ ছিল সঞ্জয়ের। সিসিটিভি ফুটেজেও স্পষ্ট সেমিনার হলের ভিতরে ঢুকতে দেখা গিয়েছিল তাকে।

গত ৯ জানুয়ারি শেষ শুনানিতে ধৃত সিভিক ভলেন্টিয়ার সঞ্জয় রায়কে দোষী হিসেবে সাব্যস্ত করে সিবিআই। এরপরই আদালতে তার ‘সর্বোচ্চ শাস্তির’ আবেদন করেছিলেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আইনজীবী। ওই ঘটনাকে ‘বিরলের মধ্যে বিরলতম’ বলে উল্লেখ করেন সিবিআইয়ের আইনজীবী। আরজি কর মামলার সঙ্গে বার বার ধনঞ্জয় চট্টোপাধ্যায়ের ফাঁসির প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। কলকাতায় হেতাল পারেখ ধর্ষণ এবং খুনের মামলায় ২০০৪ সালের ১৪ অগস্ট ফাঁসি হয় বাঁকুড়ার বাসিন্দা ধনঞ্জয়ের। তার পর পশ্চিমবঙ্গে কোনও মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়নি। শিয়ালদহ আদালতের নির্দেশ কার্যকর হলে ২১ বছর পরে এ রাজ্যে ধর্ষণ এবং খুনের মামলায় আবার মৃত্যুদণ্ড হবে। যদিও সঞ্জয়ের মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার পর তাঁর আইনজীবীদের সূত্রে জানা যাচ্ছে, তাঁরা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হচ্ছেন।

শুনানির শেষ দিনে নির্যাতিতার বাবার সন্দেহ ছিল, ওই ঘটনায় চার জুনিয়র ডাক্তারের হাত থাকতে পারে। তিনি বলেছিলেন, ‘‘ওই দিন (৮ অগস্ট) রাতে যাঁরা আমার মেয়ের সঙ্গে ছিলেন, তাঁদের আমরা প্রচণ্ড ভাবে সাসপেক্ট (সন্দেহ) করছি। ডিএনএ রিপোর্ট তো পাওয়া গিয়েছে। তথ্যপ্রমাণ দেখেছেন। কোনও মহিলার উপস্থিতি ছিল সেখানে।’’ এমনকি, সিবিআইকে তিনি ‘বিরোধী’ বলেও মন্তব্য করেন। রায় ঘোষণার আগে নির্যাতিতার বাবা নিশানা করেন মমতাকে। তিনি বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী নিজে বলেছিলেন, রাত ২টো পর্যন্ত জেগে মনিটর করেছিলেন। ওঁর কী ইন্টারেস্ট ছিল জানতে চাই। তথ্যপ্রমাণ যে লোপাট হয়েছে, সেটা সিবিআই বলেছে। শুধু সিভিক নয়, সব দোষী সামনে আসবে।’’

আরও পড়ুনঃ লিভ-ইন পার্টনারের হাতে খুন! রাস্তা থেকে উদ্ধার মৃ’তদেহ! তদন্তে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য!

আরজি করের ঘটনার পরেও রাজ্যে বেশ কয়েকটি ধর্ষণ এবং খুনের অভিযোগ উঠেছিল। শিলিগুড়ির কাছে মাটিগাড়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগর এবং মুর্শিদাবাদের ফরাক্কায় নাবালিকাকে ধর্ষণ-খুনের ঘটনাতেও মূল অভিযুক্তকে ফাঁসির সাজা দিয়েছে নিম্ন আদালত। এদের মধ্যে ফরাক্কা ধর্ষণ-খুনের মামলায় অভিযুক্ত কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। আবেদন গৃহীত হলেও এখনও শুনানি হয়নি। বাকি দু’টি মামলার আসামিরাও হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন।

RELATED Articles