ষ’ড়যন্ত্রের মুখে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা! কি কি অভিযোগ আনলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধান মন্ত্রী?

বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সরকারের বিরুদ্ধে গণবিক্ষোভের পর ২০২৪ সালের আগস্টে পদত্যাগ করেন এবং ভারতে আশ্রয় নেন। কোটা পদ্ধতির সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ব্যাপক অস্থিরতায় পরিণত হয় যার ফলে প্রায় ২০০০ জনের বেশি মৃত্যু এবং ২০০০০ জনেরও বেশি আহত হয়। ক্রমবর্ধমান সহিংসতার প্রতিক্রিয়ায়, হাসিনা ৫ই আগস্ট, ২০২৪-এ পদত্যাগ করেন এবং ভারতে আশ্রয়ের জন্য প্রার্থনা করেন।

তার প্রস্থানের পর, নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার হাসিনার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করে। তিনি একাধিক অভিযোগের মুখোমুখি হয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে দুর্নীতি, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এবং বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়ন সম্পর্কিত মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে, বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এই অভিযোগগুলি মোকাবেলা করার জন্য হাসিনাকে প্রত্যর্পণে ভারতের সহায়তার অনুরোধ করেছিল।

যুক্তরাজ্যে, টিউলিপ সিদ্দিক, হাসিনার ভাতিজি এবং আর্থিক অপরাধ ও দুর্নীতির জন্য দায়ী যুক্তরাজ্যের সাবেক অর্থমন্ত্রী, ১৪ই জানুয়ারী, ২০২৫-এ তার পদ থেকে পদত্যাগ করেন। হাসিনার সাথে তার আর্থিক সম্পর্ক এবং সংশ্লিষ্ট সম্পত্তিতে বসবাসের অভিযোগের পর তার পদত্যাগ করা হয়। তার খালার সহযোগীরা। সিদ্দিক রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের জন্য অভিযোগকে দায়ী করে কোনো অন্যায়ের কথা অস্বীকার করেছেন।

গত বছরের ৫ই আগস্ট শেখ হাসিনা এবং তার বোন শেখ রেহানাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয় বলে অভিযোগ বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। শুক্রবার রাতে বাংলাদেশ আওয়ামি লিগের পক্ষ থেকে ফেসবুক পেজে পোস্ট করা এক অডিয়োতে শেখ হাসিনা এই অভিযোগ করেন বলে জানা যায়। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি আর রেহানা বেঁচে গিয়েছি। মাত্র ২০-২৫ মিনিটের ব্যবধানে আমরা মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে যাই।’ তিনি এটাও দাবি করেন যে বিভিন্ন পর্যায়ে তাকে হত্যা করার ষড়যন্ত্র হয়েছে। তিনি বলেন, ‘২১ অগস্টের হত্যার চেষ্টা থেকে বেঁচে যওয়া, কিংবা কোটালীপাড়ার বোমা বিস্ফোরণ থেকে বেঁচে যাওয় বা ৫ অগস্টের সময় বেঁচে যাওয়ার নেপথ্যে নিশ্চয় আল্লাহর হাত আছে। তা না হলে আমা বাঁচতাম না। তবে এটা আল্লাহর রহমত যে, আমি এখনও বেঁচে আছি, কারণ আল্লাহ চান আমি আরও কিছু করি।’

আরও পড়ুনঃ “ফাঁসানো হয়েছে”- তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের মামলায় রুদ্ধশ্বাস অভিযোগ সঞ্জয় রায়ের!

অন্যদিকে মুজিবকন্যার বিরুদ্ধে জারি করা হয় গেফতারি পরোয়ানা যা গুম-খুনের মামলায় করা হয়। রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রসিকিউশনের আবেদনের প্রেক্ষিতে শুধু শেখ হাসিনা নন আরও ১১ জনের বিরুদ্ধে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল জারি করেছে গ্রেফতারি পরোয়ানা। এরই মধ্যে আবার জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের সভাপতি মেজর জেনারেল ফজলুর রহমান বলেছিলেন, “ভারত যদি শেখ হাসিনাকে না পাঠায়, তাহলে অনুমতি সাপেক্ষে ভারতে গিয়ে তাঁকে জেরা করতেও রাজি কমিশন।” উল্লেখ্য, ঢাকা দিল্লির কাছ থেকে শেখ হাসিনাকে শুধুমাত্র এক ‘নোট ভার্বাল’ দিয়ে ফেরত চেয়েছিল। কিন্তু এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সব আনুষ্ঠানিকতা নাকি সম্পন্ন করেনি বাংলাদেশ সরকার।

RELATED Articles