মনোনয়নপত্রে কি লুকোনো হয়েছে সম্পত্তির আসল হিসাব? অদিতি মুন্সী ও স্বামীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ বিজেপির, জমি বিক্রি থেকে পাওয়া টাকার হদিস নেই বলেই দাবি! ভোটের আগে কি সামনে আসছে বড় আর্থিক রহস্য?
দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের আর মাত্র ২৪ ঘণ্টা বাকি। ঠিক এই সময়েই রাজারহাট-গোপালপুর কেন্দ্রের রাজনৈতিক পরিস্থিতি হঠাৎ করেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল। তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী এবং জনপ্রিয় লোকসঙ্গীত শিল্পী অদিতি মুন্সীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে থানার দ্বারস্থ হল বিজেপি। বিজেপি প্রার্থী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি দাবি করেছেন, নির্বাচনের মনোনয়নপত্রে জমা দেওয়া হলফনামায় অদিতি মুন্সি এবং তাঁর স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তীর সম্পত্তি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করা হয়েছে। ভোটের ঠিক আগের মুহূর্তে এই অভিযোগ রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।
মঙ্গলবার বাগুইআটি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী প্রার্থীকে নিজের এবং পরিবারের সমস্ত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির সম্পূর্ণ বিবরণ হলফনামায় দিতে হয়। কিন্তু অদিতি মুন্সির জমা দেওয়া হলফনামায় সেই তথ্য পূর্ণাঙ্গভাবে উল্লেখ করা হয়নি বলে দাবি বিজেপি প্রার্থীর। তাঁর কথায়, অদিতি মুন্সি ও তাঁর স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তীর নামে কলকাতা এবং আশপাশের জেলাগুলিতে একাধিক জমি রয়েছে, যার সম্পূর্ণ হিসাব মনোনয়নপত্রে নেই। এই অভিযোগ সামনে আসতেই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
তরুণজ্যোতির অভিযোগ আরও গুরুতর হয় যখন তিনি দাবি করেন, অদিতি ও দেবরাজ যৌথভাবে বহু জমি কিনেছিলেন এবং পরে সেগুলোর কিছু বিক্রিও করেছেন। কিন্তু সেই বিক্রির টাকা কোথায় গেল, তার কোনও উল্লেখ হলফনামায় নেই। বিশেষ করে চলতি বছরের ২৫ মার্চ একটি জমি মোটা অঙ্কের টাকায় বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ, অথচ সেই লেনদেন বা প্রাপ্ত অর্থের কোনও তথ্য নথিতে পাওয়া যাচ্ছে না। বিজেপির দাবি, এটি শুধুমাত্র তথ্য গোপন নয়, বরং ভোটারদের সামনে অসম্পূর্ণ তথ্য তুলে ধরার চেষ্টা। তাই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা উচিত বলেও দাবি তুলেছেন তাঁরা।
এই প্রসঙ্গে আরও একটি নাম সামনে এসেছে,‘বি সি গ্লোবাল’। বিজেপি প্রার্থীর দাবি, এই সংস্থার মাধ্যমে সম্পত্তি কেনাবেচার যোগসূত্র পাওয়া যাচ্ছে। সংবাদমাধ্যমের সামনে তরুণজ্যোতি প্রশ্ন তোলেন, এত বড় অঙ্কের সম্পত্তি বিক্রির পর সেই অর্থ কোথায় গেল এবং তার উৎস কী। তিনি বলেন, একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে কোনও সম্ভাব্য আর্থিক অনিয়মের খবর পুলিশ, আয়কর দফতর বা কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে জানানো তাঁর দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালন করতেই তিনি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁর মন্তব্য, সত্য সামনে আনতেই এই পদক্ষেপ।
আরও পড়ুনঃ কঠিন মুহূর্তে সুদীপা চট্টোপাধ্যায়! প্রিয়জনের অকাল প্রয়াণে ভেঙে পড়লেন সঞ্চালিকা!
অন্যদিকে, এই অভিযোগ ঘিরে এখনও পর্যন্ত অদিতি মুন্সি বা তাঁর স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তীর তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে তৃণমূলের একাংশের দাবি, ভোটের আগে রাজনৈতিকভাবে চাপে ফেলতেই বিজেপি এই অভিযোগ তুলছে। তাঁদের মতে, ভোটারদের বিভ্রান্ত করা এবং প্রার্থীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করাই এর মূল উদ্দেশ্য। কিন্তু বিজেপি স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা আইনি পথেই লড়বে এবং সত্য প্রকাশ্যে আনবে। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন বা নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগের ভিত্তিতে কোনও পদক্ষেপ নেয় কি না। ভোটের আগের রাতে এই বিতর্ক রাজারহাট-গোপালপুরের ভোটারদের মনে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।





