২০২৫-এ ফিরছে ঐতিহাসিক যাত্রা! ভারত-চীনের যৌথ সিদ্ধান্তে আশার আলো!

গত কয়েক বছর ধরে ভারত (India) ও চীনের সম্পর্ক নানা চড়াই-উতরাইয়ের মধ্যে দিয়ে গেছে। বিশেষ করে সীমান্তে সংঘাত, মহামারী পরিস্থিতি এবং কূটনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে দুই দেশের মধ্যে দূরত্ব বেড়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে উভয় দেশই সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য বেশ কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে, উভয় দেশের মধ্যে বন্ধুত্ব পুনঃস্থাপনের উদ্দেশ্যে নতুন আলোচনার সূচনা হয়েছে। দুই দেশের নেতৃত্বের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত এই সম্পর্ককে অন্য এক স্তরে নিয়ে যেতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের মত।

ভারত ও চীন যৌথভাবে ২০২৫ সালের গ্রীষ্মে কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রা পুনরায় চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে ২০২০ সালে এই ঐতিহাসিক তীর্থযাত্রা স্থগিত করা হয়েছিল। তারপর থেকে নানা কারণে তা আর শুরু করা সম্ভব হয়নি। তবে এবার দুই দেশের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে এই যাত্রা পুনরায় চালু করার প্রস্তুতি চলছে। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বিদ্যমান চুক্তি অনুযায়ী যাত্রার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ঠিক করতে উভয় দেশের প্রতিনিধিরা যৌথ আলোচনায় বসবেন।

ভারত ও চীনের মধ্যে কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রা শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি দুই দেশের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক সম্পর্কের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। উভয় দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনায় এই যাত্রার কার্যপ্রণালী নির্ধারণের জন্য বিদ্যমান চুক্তিগুলিকে মেনে চলার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি, চীনের পক্ষ থেকে যাত্রীদের নিরাপত্তা এবং যাত্রাপথের সুবিধাসমূহ উন্নত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রা ছাড়াও, ভারত ও চীন সরাসরি বিমান পরিষেবা পুনরায় চালু করার পরিকল্পনা করছে। ২০২০ সালে মহামারীর কারণে এই পরিষেবা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। দুই দেশের মধ্যে নীতিগতভাবে এই বিষয়ে সম্মতি হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা বাস্তবায়নের জন্য আলোচনা করবে। সরাসরি বিমান চালু হলে দুই দেশের মধ্যে ভ্রমণ সহজ হবে এবং মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বাড়বে।

আরও পড়ুনঃ বামপন্থী ট্রোল ‘নরুন্দর’ এর বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে শোরগোল! নারীদের বিরুদ্ধে বিকৃত আচরণের দাবি!

কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রা পুনরায় চালু এবং সরাসরি বিমান পরিষেবা শুরু করার মতো পদক্ষেপ দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের একটি ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। যদিও সাম্প্রতিক অতীতে সীমান্ত সংঘর্ষ এবং কূটনৈতিক টানাপোড়েন দুই দেশের সম্পর্কে গভীর প্রভাব ফেলেছে, এই ধরনের পদক্ষেপ সেই দূরত্ব কমিয়ে আনতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৫ সালে উভয় দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে আরও অনেক ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।

আরও অন্যান্য খবর