দাম্পত্য জীবন ভালোবাসা, বিশ্বাস এবং পারস্পরিক সমঝোতার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। কিন্তু বর্তমান সমাজে দাম্পত্য জীবনে ছলনা ও প্রতারণার নানা ঘটনা ক্রমশ সামনে আসছে। প্রেম বা সংসারে মানসিক দূরত্ব কখনো কখনো এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যেখানে একজন সঙ্গী অন্যজনের বিশ্বাস ভেঙে তাকে ঠকিয়ে চলে যান। কখনও অন্য সম্পর্কে জড়ানো, কখনও প্রতারণা কিংবা আর্থিক শোষণ—এমন ঘটনার নজির বহু আছে। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাটি সমাজের এক ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছে।
হাওড়ার সাঁকরাইলের এক ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন যে, তার স্ত্রী ভবিষ্যতে তাদের কন্যার বিয়ের জন্য গয়না তৈরি করার কথা বলে তাকে একটি কিডনি বিক্রি করতে বাধ্য করেন। এই কিডনি বিক্রির টাকা এবং কেনা গয়না নিয়ে স্ত্রী পলাতক হয়েছেন তার প্রেমিকের সঙ্গে। অভিযোগকারীর দাবি অনুযায়ী, ৩৩ বছরের ওই তরুণী নিজেই স্বেচ্ছায় তাকে এই কাজে বাধ্য করেন।
গত বছর অক্টোবরে এক রোগীর নাম করে ওই ব্যক্তি তার কিডনি বিক্রি করেন, যার থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা তার অ্যাকাউন্টে এবং প্রায় দু’লক্ষ টাকা স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে জমা পড়ে। কিন্তু গত ২৩ ডিসেম্বর, বাজার যাওয়ার নাম করে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান ওই তরুণী। স্বামী প্রথমে নিখোঁজ ডায়েরি করেন, পরে কলকাতা হাইকোর্টে হেবিয়াস কর্পাস মামলা দায়ের করেন। তবে মামলার শুনানিতে পুলিশ আদালতকে জানায়, ওই তরুণী লিখিতভাবে জানিয়েছেন তিনি স্বেচ্ছায় ঘর ছেড়েছেন এবং বর্তমানে তার প্রেমিকের সঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর মতো আছেন।
আদালত জানিয়েছে, যেহেতু ওই তরুণী স্বেচ্ছায় ঘর ছেড়ে গেছেন, তাই হেবিয়াস কর্পাস মামলা আর কার্যকর নয়। তবে ওই ব্যক্তি এরপর স্ত্রীর ও তার প্রেমিকের বিরুদ্ধে থানায় প্রতারণার মামলা দায়ের করেন। যদিও আইনজ্ঞদের মতে, কিডনি বিক্রি করার ঘটনাটি বেআইনি এবং এতে অভিযোগকারীর বিরুদ্ধেও আইনি পদক্ষেপ হতে পারে।
আরও পড়ুনঃ এবার কি তবে টোটো বন্ধ হওয়ার পথে? চলাচলের নতুন নিয়মে শহরে শোরগোল!
এই ঘটনাটি শুধু দাম্পত্য জীবনের প্রতারণার এক চরম উদাহরণ নয়, বরং সমাজে আর্থিক ও মানসিক শোষণের এক গভীর চিত্র তুলে ধরেছে। স্ত্রীর প্রতারণার শিকার হওয়ার পাশাপাশি নিজের ভুলেরও মাশুল গুনতে হচ্ছে ওই ব্যক্তিকে। আদালতের নির্দেশে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের ওপর নজর থাকবে সবার।





