মালদার এক স্কুলছাত্রীর আঁকা একটি পেন্সিল স্কেচ ঘিরে তৈরি হয়েছে বিশেষ আবেগঘন মুহূর্ত। সেই ছবিই এখন পৌঁছে দিয়েছে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর পর্যন্ত। শুধু তাই নয়, প্রধানমন্ত্রীর সই করা চিঠি ও ফোনকল পেয়ে আপ্লুত হয়ে পড়েছে ওই ছাত্রী ও তার পরিবার। ঘটনাটি ঘিরে ইংরেজবাজারে এখন চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী অনুষ্কা চক্রবর্তী।
ইংরেজবাজারের একটি বেসরকারি স্কুলের ছাত্রী অনুষ্কা প্রায় তিন মাস আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও তাঁর মা হীরাবেন মোদীর একটি মুহূর্ত পেন্সিল স্কেচে ফুটিয়ে তোলে। ছবিতে দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রী মায়ের সামনে হাতজোড় করে দাঁড়িয়ে রয়েছেন এবং হীরাবেন স্নেহভরে ছেলের মাথায় হাত রেখে আশীর্বাদ করছেন। অনুষ্কা জানিয়েছে, মায়ের গুরুত্ব বোঝাতেই সে এই দৃশ্যটি আঁকার সিদ্ধান্ত নেয়।
এই ছবিটি প্রথম নজরে আসে গত ১৭ জানুয়ারি, যখন মালদা টাউন স্টেশন থেকে হাওড়া–কামাখ্যাগামী বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের উদ্বোধনে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সময় স্টেশন চত্বরে বিভিন্ন স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। উপস্থিত ছিল অনুষ্কাও। অন্যান্য উপহারের সঙ্গে তার আঁকা স্কেচটি প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেওয়া হয়। সেই মুহূর্তে ছবিটি দেখে প্রধানমন্ত্রী আবেগপ্রবণ হন এবং অনুষ্কার মাথায় হাত রেখে আশীর্বাদ করেন বলে জানা যায়।
ঘটনার কয়েক মাস পর হঠাৎ করেই অনুষ্কার বাড়িতে আসে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে ফোন। ফোনে তার বাবা তাপস চক্রবর্তীকে মেয়ের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হয়। এরপরই আসে প্রধানমন্ত্রীর সই করা একটি চিঠি, যেখানে অনুষ্কার আঁকা ছবির প্রশংসা করা হয়েছে এবং তাকে শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। এই ফোন ও চিঠি পাওয়ার পর থেকেই খুশিতে উচ্ছ্বসিত পুরো পরিবার।
অনুষ্কার বাড়ি ইংরেজবাজারের ঝলঝলিয়া মনস্কামনা রোড এলাকায়। তার বাবা তাপস চক্রবর্তী একজন সরকারি স্কুলের শিক্ষক এবং মা শ্রাবন্তী চক্রবর্তী গৃহবধূ। পরিবারের মতে, অনুষ্কা ছোটবেলা থেকেই আঁকার প্রতি আগ্রহী। তবে এই ঘটনা তার জীবনে এক বিশেষ স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে। অনুষ্কার কথায়, “মায়ের প্রতি সম্মান ও ভালোবাসা দেখাতেই আমি এই ছবি এঁকেছিলাম। কখনও ভাবিনি এটি এত দূর পর্যন্ত পৌঁছে যাবে।”
আরও পড়ুনঃ ভোটের আগে রণ*ক্ষেত্র জগদ্দল! অর্জুন সিংয়ের বাড়িতে হামলার অভিযোগ, গুলিতে জখম কেন্দ্রীয় জওয়ান, তৃণমূল কাউন্সিলরসহ ৪ গ্রেফ*তার, চাপে প্রশাসন!
এই ঘটনার পর অনুষ্কার স্কুলেও তার সহপাঠী ও শিক্ষকরা তাকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন। স্থানীয় মহলেও তার এই সাফল্য নিয়ে আলোচনা চলছে। সাধারণ একটি স্কুলছাত্রীর আঁকা ছবি কীভাবে দেশের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছে যেতে পারে, অনুষ্কার ঘটনা এখন তারই এক বাস্তব উদাহরণ হয়ে উঠেছে।





