মিতালি বাগের উপর হামলা কি সত্যিই রাজনৈতিক আ*ক্রমণ, নাকি সাজানো নাটক? পুলিশের বিস্ফো*রক রিপোর্টে তোলপাড় আরামবাগের ভোটের মাঠ!

আরামবাগে নির্বাচনী প্রচারের শেষ দিনে হঠাৎই উত্তেজনার পারদ চড়ে যায় মিতালি বাগকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া এক বিতর্কিত ঘটনাকে ঘিরে। তৃণমূল সাংসদের গাড়িতে হামলার অভিযোগ সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় তুমুল চাপানউতোর। ঘটনায় আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং তাঁর কান্নার ছবি ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। কিন্তু এই ঘটনায় পুলিশের প্রাথমিক রিপোর্ট সামনে আসতেই তৈরি হয়েছে নতুন করে বিতর্ক, যেখানে পুরো ঘটনাকেই ‘সাজানো’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় সোমবার, যখন নির্বাচনী প্রচারের শেষ দিনে রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে। অভিযোগ, বিজেপি প্রার্থী প্রশান্ত দিগার কাঁটালি থেকে কামারপুকুরের দিকে যাচ্ছিলেন প্রচারে। সেই সময় তৃণমূল কর্মীরা বিজেপির ছয়টি গাড়িতে ভাঙচুর চালায় এবং ইটবৃষ্টি করে বলে অভিযোগ ওঠে। এর জেরেই পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং পাল্টা আক্রমণ চালায় বিজেপি কর্মীরাও।

এই উত্তেজনার মাঝেই গোঘাট এলাকায় মিতালি বাগের গাড়িতে হামলার অভিযোগ সামনে আসে। গাড়ির কাচ ভেঙে দেওয়া হয় বলে দাবি করা হয় এবং ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া ছবি ও ভিডিওতে সেই চিত্রও দেখা যায়। গাড়ির সামনের সিটে বসে কান্নারত অবস্থায় দেখা যায় তৃণমূল সাংসদকে, যা মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন মাধ্যমে। এরপরই তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় চিকিৎসার জন্য।

তবে এই ঘটনায় মোড় ঘুরে যায় পুলিশের রিপোর্ট সামনে আসার পর। নির্বাচন কমিশনের তরফে বিস্তারিত রিপোর্ট চাওয়া হলে পুলিশ সুপার যে প্রাথমিক তথ্য দেন, তাতে উল্লেখ করা হয় এটি কোনও পরিকল্পিত রাজনৈতিক হামলা নয়, বরং তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীকোন্দলের ফল। এমনকি রিপোর্টে ঘটনাটিকে ‘সাজানো ঘটনা’ বলেও দাবি করা হয়েছে, যা রাজনৈতিক মহলে আরও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

আরও পড়ুনঃ উর্দি পড়ে সরকার বদলের ডাক ! ‘হিন্দুদের ধর্মান্তরে উৎসাহ দিচ্ছে তৃণমূল’, রাজ্য পুলিশের খাকি পোশাকেই মমতার বিরুদ্ধে বিস্ফো*রক অভিযোগ! ভাইরাল ভিডিও ঘিরে রাজ্য জুড়ে তীব্র বিতর্ক!

এই ঘটনায় যাকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তিনি নিজেকে তৃণমূল কর্মী বলেই পরিচয় দিয়েছেন। ফলে প্রশ্ন উঠছে, যদি অভিযোগ সত্যি হয়, তবে এই হামলার নেপথ্যে দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বই কি মূল কারণ? যদিও তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করা হয়েছে এবং বিষয়টি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে দাবি করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদার আগেই এই ঘটনাকে ঘিরে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন। পুলিশের রিপোর্ট সামনে আসার পর তিনি আরও জোরালোভাবে দাবি করছেন, এই ঘটনা রাজনৈতিকভাবে সহানুভূতি আদায়ের জন্য সাজানো হতে পারে। সব মিলিয়ে ভোটের আগে এই ঘটনা আরামবাগের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে, আর সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি করেছে বিভ্রান্তি ও কৌতূহল, আসলে সত্যিটা কী?

RELATED Articles