ক্ষমতার সিংহাসনে অনিশ্চয়তা! রাষ্ট্রপতি শাসনের আগে কে হবেন পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী?

রাজনৈতিক মহলে যখনই কোনো বড় পরিবর্তন হয়, তখনই তা নিয়ে আলোচনার ঝড় ওঠে। বিশেষ করে দলীয় নেতাদের মধ্যে কোণঠাসা অবস্থান, ক্ষমতার মসনদে বসার জন্য লড়াই, এ সবই রাজনীতির অঙ্গ। অনেক সময় রাজনৈতিক দলের ভিতরে গোপন দ্বন্দ্ব প্রকাশ পায়, যার ফলস্বরূপ দলের নেতৃত্বে পরিবর্তন আসতে পারে। এই ধরনের পরিস্থিতি সাধারণত রাজ্য রাজনীতিতে বেশি লক্ষ্য করা যায়, যেখানে ক্ষমতার জন্য বিভিন্ন দলের মধ্যে টানাপোড়েন থাকে। যদিও এ ধরনের পরিস্থিতি দেশের প্রতিটি রাজ্যেই কখনও না কখনও দেখা যায়, তবে সবসময় তা সমাধান হয়ে ওঠে না, বরং অস্থিরতা বাড়ে।

এমন একটি সময়ে রাজনীতিতে গোষ্ঠী সংঘাত এবং দলের ভিতরের বিচ্ছিন্নতা একেবারে নতুন মাত্রা নিতে পারে। যেখানে মন্ত্রীরা দলবদল করেন, সেখানে একদল থেকে আরেকদলে চলে আসেন নেতারা, যা দলীয় নেতৃত্বের সংকট তৈরি করে। ভারতীয় রাজনীতিতে সাধারণত এ ধরনের ঘটনার ফলশ্রুতিতে নতুন নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা বেড়ে যায়, আর রাজ্যব্যাপী চলতে থাকে রাজনৈতিক সংকট। দলীয় চাপে, নীতি পরিবর্তন কিংবা জনগণের চাপের কারণে এমন ঘটনা ঘটতে থাকে, যার মাধ্যমে সরকারে একটি অস্থির পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

তবে, সবথেকে চমকপ্রদ ঘটনা দেখা গেছে মণিপুরে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিং পদত্যাগ করেছেন, যা একেবারে নতুন পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। গত রবিবার, একদম হঠাৎ করে পদত্যাগ করেন বীরেন সিং, তাঁর পদত্যাগের দাবি এক বছর ধরেই উঠছিল। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছিল রাজ্যে, এবং শেষপর্যন্ত তাঁর পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এমনকি পদত্যাগের সময় তাঁর পাশে ছিলেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে সম্বিত পাত্র, যা আরও ইঙ্গিত দেয় যে দলীয় ভিতরেও ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছিল।

আরও পড়ুনঃ গ্ল্যামারের আড়ালে বিপদজনক ব্যবসা! অভিনেত্রীর ন*গ্ন ছবি বিক্রি করে পকেট ভরাতেন ভাই!

এখন, মণিপুরের নতুন মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিজেপির একাধিক সদস্য নতুন মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দাবিদার, তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, মৈতেই জনগণের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। ফলে, তাঁদের মধ্য থেকেই একাধিক প্রার্থী মুখ্যমন্ত্রী পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। কিন্তু, বীরেন সিং এখনও কিছু বিধায়ককে নিজের পাশেই রেখেছেন এবং তিনি চেষ্টা করছেন তাঁর অনুগামীদের মধ্যে থেকে কাউকে এই পদের জন্য প্রস্তাব করতে।

এই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে, কারণ বিধানসভা অধিবেশন স্থগিত হতে চলেছে। ১২টার মধ্যে বিধানসভা সাময়িকভাবে স্থগিত হয়ে গেলে, রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে, কেন্দ্রীয় সরকার হয়তো মণিপুরের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব নেবে, এবং রাজ্য এক মাসের জন্য রাষ্ট্রপতির অধীনে চলে যেতে পারে। এরপর, একমাস পর সর্বসম্মতভাবে নতুন মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন করা সম্ভব হবে, এমন আশা করছে বিজেপি নেতৃত্ব।

Khabor24x7 Desk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর