মহাকুম্ভ মেলা বিশ্বের বৃহত্তম ধর্মীয় সমাবেশ হিসেবে পরিচিত। এটি ভারতের এক ঐতিহাসিক উৎসব, যেখানে লক্ষ লক্ষ তীর্থযাত্রী পবিত্র স্নান করতে প্রতি ১৪৪ বছর অন্তর একত্রিত হন। বিশেষভাবে গঙ্গা, যমুনা, সরস্বতীসহ অন্যান্য পবিত্র নদীগুলিতে স্নান করার জন্য ধর্মপ্রাণ মানুষ এখানে হাজির হন, যাতে তারা আত্মিক শুদ্ধতা অর্জন করতে পারেন। মহাকুম্ভ মেলা শুধুমাত্র ধর্মীয় গৌরবই নয়, বরং ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরও এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে, এই ধর্মীয় উৎসবের পরিবেশে ঘটছে একের পর এক দুর্ঘটনা, যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রতিনিয়তই মহাকুম্ভ মেলা থেকে ফিরে আসার পথে দুর্ঘটনা ঘটার খবর শোনা যায়। বিপুল জনসমাগম এবং শৃঙ্খলার অভাবে প্রায়ই এই ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। খ্যাতনামা পুণ্যার্থীরা মেলায় যোগ দিয়ে আধ্যাত্মিক শান্তি লাভের জন্য আসলেও, অনেক সময় দুর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতির শিকার হন তারা। দুর্ঘটনাগুলোর কারণে অনেক পরিবার নিজেদের প্রিয়জনকে হারিয়েছে। এই ঘটনাগুলো শুধুমাত্র দুর্ঘটনা নয়, বরং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড় প্রশ্নও তুলে দেয়।
মহাকুম্ভ মেলা থেকে ফেরার পথে আরেকটি ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে গেল। হঠাৎই ঘটল এমন এক ঘটনা, যা সবার সামনে নতুন এক শোকের ইতিহাস রেখে গেল। এই দুর্ঘটনার সাথে সস্পর্কিত বিস্তারিত খবর পাওয়ার আগেই, ঘটনা নিয়ে শুরু হল নানা প্রশ্ন। কী এমন ঘটল যে একে একে প্রিয়জন হারালেন অনেকেই? এই দুর্ঘটনার শিকার হয়ে আরও এক শোকের আবহাওয়া সৃষ্টি হল।
ঘটনাটি ঘটেছে বিহারের সাসারামের কাছে, যেখানে ১২ জন পুণ্যার্থী মহাকুম্ভ মেলা থেকে ফেরার পথে একটি গাড়িতে ছিলেন। তাদের গাড়িটিকে পিষে দেয় একটি বেপরোয়া লরি। দুর্ঘটনাটি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, এতে ২ পুণ্যার্থীর মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে একজন লক্ষ্মী চক্রবর্তী এবং অন্যজন জিতু দাস। লক্ষ্মী চক্রবর্তী ছিলেন স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রতিনিধির স্ত্রী। আহত আরও ২ জনকে পাটনা মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হয়েছে, যাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহতদের উদ্ধার করে সাসারাম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, সেখানে তাদের মৃত্যু হয়।
আরও পড়ুনঃ স্ত্রীর সম্মতি থাকুক বা না থাকুক, বিয়ের পর সবকিছুতেই রয়েছে স্বামীর অধিকার! জানিয়ে দিল হাইকোর্ট!
মহাকুম্ভ মেলা থেকে ফেরার পথে ঘটেছে এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা, যার ফলে ১২ জন পুণ্যার্থীর মধ্যে ২ জন প্রাণ হারান। এটা শুধুমাত্র দুর্ঘটনা নয়, এটি মহাকুম্ভ মেলার পরিবেশ এবং যাতায়াত ব্যবস্থার উপর বড় প্রশ্ন তুলছে। এর আগেও পুরুলিয়ার তিন মহিলার মৃত্যু হয়েছিল, যারা মহাকুম্ভ মেলায় গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিলেন। এবার দেগঙ্গার পুণ্যার্থীদের এমন দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বাড়ল, যা পুরো রাজ্যকে শোকাহত করেছে।





