কুম্ভের গঙ্গাজল কি স্নানের উপযুক্ত? বিজ্ঞানীর পরীক্ষা বনাম সরকারি রিপোর্টে ধোঁয়াশা!

ভারতের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশ কুম্ভ মেলা, যা প্রতি বারো বছরে একবার অনুষ্ঠিত হয়। লক্ষ লক্ষ ভক্ত, সাধু-সন্ত, তীর্থযাত্রী এবং পর্যটক এই মেলায় সমবেত হন। প্রধান আকর্ষণ গঙ্গা, যমুনা এবং পৌরাণিক সরস্বতী নদীর সঙ্গমস্থলে পবিত্র স্নান। হিন্দু ধর্মে বিশ্বাস করা হয়, এই স্নান পাপ মোচন করে এবং আত্মার পরিশুদ্ধি ঘটায়। প্রাচীন গ্রন্থেও কুম্ভ স্নানের মাহাত্ম্যের উল্লেখ রয়েছে, যা ভক্তদের কাছে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

যেহেতু ১৪৪ বছর পর পর মহা কুম্ভ মেলা হয় সেই কারণে বর্তমান অবস্থায় পৃথিবীতে যারা রয়েছে তারা কেউই পরবর্তী মেলা কিন্তু দেখতে পাবে না সেই কারণে এইবার বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশগ্রহণ করেছেন। তবে, এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মাঝেই গঙ্গার জল দূষণ নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের এক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, সঙ্গমের জল স্নানের জন্য উপযুক্ত নয়, কারণ এতে বায়োলজিক্যাল অক্সিজেন ডিমান্ড (BOD) এবং ডিসলভড অক্সিজেন (DO) এর মাত্রা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এই তথ্য সামনে আসতেই ভক্তদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ কেন্দ্রীয় দূষণ পর্ষদের রিপোর্ট খারিজ করে দেন। তাঁর দাবি, রাজ্য দূষণ পর্ষদের তথ্য অনুযায়ী, সঙ্গমের জল শুধু স্নানের জন্য নয়, পান করাও নিরাপদ। যোগী বলেন, “গঙ্গা এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি পরিষ্কার, এবং বিরোধীরা মহাকুম্ভের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করছে।” বিজেপি সরকারের এই দাবিকে সমর্থন জানিয়েছেন রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী ও প্রশাসনিক আধিকারিক।

আরও পড়ুনঃ হোলি উৎসবকে অপমান! ফারহা খানের ‘ছাপরি’ মন্তব্যে ফুঁসছে নেটদুনিয়া!

এই বিতর্কের মধ্যেই দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানী, পদ্মশ্রী ড. অজয়কুমার সোনকার তাঁর গবেষণার মাধ্যমে গঙ্গার বিশুদ্ধতা প্রমাণ করার দাবি করেছেন। তাঁর মতে, তিনি পাঁচটি পৃথক ঘাট থেকে গঙ্গাজল সংগ্রহ করে তিন মাস ধরে পরীক্ষা করেছেন। পরীক্ষার ফলাফল অনুযায়ী, জলের pH লেভেল ৮.৪ থেকে ৮.৬-এর মধ্যে, যা সাধারণ আলকালাইন ওয়াটারের মতোই শুদ্ধ। বিজ্ঞানীর দাবি, জলে জীবাণুর পরিমাণ বেশি হলে pH কমে যায়, কিন্তু কুম্ভের জলে তা হয়নি।

নিজের গবেষণাকে আরও জোরদার করতে ড. সোনকার সমালোচকদের জন্য ‘ওপেন চ্যালেঞ্জ’ ছুড়েছেন। তিনি বলেছেন, “যদি কারও সন্দেহ থাকে, তবে তারা গঙ্গাজল নিয়ে এসে আমার ল্যাবে পরীক্ষা করতে পারেন। আমি প্রমাণ করে দেব, এই জল সম্পূর্ণ বিশুদ্ধ এবং নিরাপদ।” তাঁর এই চ্যালেঞ্জ নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। একদিকে বিজ্ঞানী ও যোগীর দাবি, অন্যদিকে দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের রিপোর্ট—এই দ্বন্দ্বের মাঝেই কুম্ভ মেলার পুণ্যার্থীরা তাদের বিশ্বাসকে অটুট রেখেছেন, গঙ্গাস্নান অব্যাহত রেখেছেন।

Khabor24x7 Desk

আরও পড়ুন

RELATED Articles