প্রতিদিন সকাল হতেই শহরের ব্যস্ত রাস্তায় কর্মব্যস্ত মানুষের ঢল নামে। কেউ অফিসগামী, কেউ কলেজ কিংবা স্কুলের পথে, আবার কেউ ব্যক্তিগত কাজে বেরিয়েছেন। কিন্তু শহরের এই ব্যস্ত জীবনে নির্ভরযোগ্য গণপরিবহণ না থাকলে কী ভয়াবহ পরিস্থিতি হতে পারে, তা সহজেই কল্পনা করা যায়। বাস না পেলে যাত্রীদের বেশিরভাগই বিকল্পের সন্ধানে দ্বিগুণ খরচে অটো কিংবা ক্যাব ধরতে বাধ্য হন। অথচ, এই সাধারণ অথচ গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাটি অনেক সময় আলোচনার বাইরেই থেকে যায়।
সম্প্রতি কলকাতার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রুটের বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এমনই এক সংকটের মুখে পড়েছেন যাত্রীরা। ৪৬, ৪৬এ, এবং ৪৬বি রুটের বাসগুলি প্রতিদিন বিমানবন্দর, বাগুইআটি, কেষ্টপুর, চিনারপার্ক, কাঁকুরগাছি হয়ে কলেজ স্ট্রিট পর্যন্ত হাজার হাজার যাত্রী পরিবহণ করত। হঠাৎ করেই এই বাস পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সমস্যায় পড়েছেন সাধারণ মানুষ। কেউ বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে থেকেও বাস পাচ্ছেন না, কেউবা নিরুপায় হয়ে অতিরিক্ত ভাড়ায় অন্য পরিবহণ বেছে নিচ্ছেন।
বাস মালিকদের দাবি, শ্রমিক নেতা হীরালাল খেওড়ের দাদাগিরির কারণেই এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ, তিনি বাস মালিকদের কাছ থেকে জোর করে টাকা আদায়ের চেষ্টা করছেন এবং কর্মীদের কাজ থেকে বিরত রাখতে ভয় দেখাচ্ছেন। ফলে, মালিক ও কর্মীদের মধ্যে তৈরি হওয়া দ্বন্দ্বের জেরে ৬৩টি বাস রাস্তায় নামছে না। শ্রমিকদের একাংশ আবার পাল্টা দাবি করেছেন, বোনাস সংক্রান্ত সমস্যা এবং নিরাপত্তার অভাবের কারণেই তারা কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ বয়স বাড়লে কে দেবে ভরসা? আসছে কেন্দ্রের নতুন সর্বজনীন পেনশন প্রকল্প!
এদিকে, এই বাস বন্ধের ফলে চরম বিপাকে পড়েছেন প্রতিদিনের যাত্রীরা। একদিকে সময় নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে অতিরিক্ত অর্থব্যয়ের চাপ পড়ছে সাধারণ মানুষের উপর। বিশেষ করে অফিসগামী ও শিক্ষার্থীদের সমস্যা চরমে পৌঁছেছে। বিমানবন্দরগামী যাত্রীদের মধ্যেও ক্ষোভ ছড়িয়েছে, কারণ তাদের অনেকেই নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না।
পরিবহণমন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী জানিয়েছেন, বিষয়টি নজরে এসেছে এবং শীঘ্রই সমস্যার সমাধানের জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে ঠিক কবে বাস পরিষেবা স্বাভাবিক হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ফলে, আপাতত নিত্যযাত্রীদের দুর্ভোগ কমার কোনও লক্ষণ নেই।





