বয়স বাড়লে কে দেবে ভরসা? আসছে কেন্দ্রের নতুন সর্বজনীন পেনশন প্রকল্প!

বার্ধক্য মানেই যেন জীবনের একটা অনিশ্চিত অধ্যায়। শরীর আর আগের মতো চলে না, অথচ খরচ কিন্তু থামে না। সংসার চালানো, ওষুধ কেনা, দৈনন্দিন খরচ—সব মিলিয়ে ভবিষ্যতের চিন্তা অনেকের রাতের ঘুম কেড়ে নেয়। কর্মক্ষম বয়সে উপার্জন থাকলেও অবসরের পর টাকার সংস্থান কীভাবে হবে, তা নিয়ে বহু মানুষ দুশ্চিন্তায় থাকেন। অনেকেই চাকরিজীবনে থাকতে থাকতেই সঞ্চয়ের পরিকল্পনা করেন, কিন্তু সবাই যে তা পারেন, এমনটা নয়। আর যারা বেসরকারি বা অনিয়মিত ক্ষেত্রে কাজ করেন, তাদের তো একেবারেই নির্ভরযোগ্য পেনশনের ব্যবস্থা থাকে না। ফলে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনিশ্চয়তা আরও ঘনীভূত হয়।

এই পরিস্থিতিতে পেনশন ব্যবস্থা থাকলে অনেকটা নিশ্চিন্ত থাকা যায়। সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য পেনশন থাকলেও বেসরকারি ক্ষেত্রের চাকুরিজীবী কিংবা ছোট ব্যবসায়ীরা এই সুবিধা পান না। বিশেষ করে নির্মাণ শ্রমিক, গৃহসহায়ক বা দিনমজুরদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও কঠিন। বার্ধক্যে পৌঁছে গিয়ে উপার্জন ক্ষমতা হারিয়ে ফেললে জীবনধারণ কীভাবে সম্ভব, সেটাই বড় প্রশ্ন। যদিও বর্তমানে কিছু স্কিম রয়েছে, তবু তার আওতায় সবাই আসেন না। তাই একটা সর্বজনীন পেনশন স্কিমের প্রয়োজনীয়তা বহুদিন ধরেই অনুভূত হচ্ছিল। আর এবার সেই দিকেই উদ্যোগী হতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার।

শোনা যাচ্ছে, কেন্দ্রীয় শ্রম মন্ত্রক এমনই এক সর্বজনীন পেনশন স্কিম নিয়ে ভাবনাচিন্তা করছে, যা দেশের সমস্ত নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য হবে। এক নির্দিষ্ট পেনশন বা সেভিংস স্কিম আনার পরিকল্পনা চলছে, যাতে চাকরিজীবী এবং স্বনির্ভর কর্মীরাও সুবিধা পাবেন। বর্তমানে যে ইপিএফও (EPFO)-এর মতো পেনশন স্কিম রয়েছে, তার সঙ্গেও নতুন এই স্কিমের কিছু পার্থক্য থাকবে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এটি কোনও বিদ্যমান পেনশন স্কিমের পরিবর্তে নতুন একটি উদ্যোগ হতে পারে, যা বর্তমান ব্যবস্থার পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে।

আরও পড়ুনঃ বেটা হো তো অয়সা! বাবার বিরুদ্ধে তোপ অভিষেকের, পাশে দাঁড়িয়েও চুপ কেন শুভ্রাংশু?

বর্তমানে অংসগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকদের জন্য প্রধানমন্ত্রী শ্রম যোগী মন্ধন যোজনা, অটল পেনশন যোজনা এবং প্রধানমন্ত্রী কিষান মন্ধন যোজনার মতো স্কিম চালু রয়েছে। যেখানে নির্দিষ্ট বয়সের পর মাসিক পেনশন মেলে। নতুন প্রস্তাবিত পেনশন স্কিমের অধীনে কী ধরনের সুবিধা মিলবে, কত টাকা পর্যন্ত পেনশন দেওয়া হবে, তা নিয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য আসেনি। তবে এই প্রকল্প চালু হলে দেশের অসংগঠিত ক্ষেত্রে কর্মরত কোটি কোটি মানুষ উপকৃত হতে পারেন। সরকার যদি সর্বজনীন পেনশন স্কিম চালু করে, তবে বার্ধক্যের আর্থিক অনিশ্চয়তা অনেকটাই দূর হবে।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, খুব শীঘ্রই এই পেনশন স্কিম নিয়ে বিস্তারিত ঘোষণা করতে পারে কেন্দ্রীয় সরকার। তবে এই নতুন স্কিম ঠিক কীভাবে কাজ করবে, এর আওতায় কারা আসবেন এবং কী পরিমাণ পেনশন পাওয়া যাবে, সে সম্পর্কিত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও নেওয়া হয়নি। কিন্তু এতদিন ধরে যে অনিশ্চয়তা এবং ভবিষ্যতের চিন্তা বহু মানুষকে কুরে কুরে খাচ্ছিল, সেই দুশ্চিন্তার অবসান হতে পারে মোদী সরকারের নতুন এই উদ্যোগে। এখন দেখার, কত দ্রুত এই পেনশন ব্যবস্থা বাস্তবায়িত হয় এবং তাতে সাধারণ মানুষ কতটা উপকৃত হন।

Khabor24x7 Desk

আরও পড়ুন

RELATED Articles