গণতন্ত্রের অন্যতম স্তম্ভ বিচারব্যবস্থা, যা আইন ও ন্যায়বিচারের সুরক্ষা দেয়। তবে, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু উগ্রপন্থী সংগঠন এবং ব্যক্তিবিশেষ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি মুখ খুলতেও পিছপা হচ্ছেন না এমনই একজন বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব হলেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ইন্দ্রানুজ রায়, যিনি নিজের রাজনৈতিক মতাদর্শ প্রচারের জন্য রাষ্ট্র, আইন ও বিচারব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করেছেন।
সম্প্রতি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি আন্দোলনে আহত হন ইন্দ্রানুজ রায়। তারপরেই এই ছাত্রের আগে করা সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক উস্কানিমূলক পোস্ট দেখা যায়, যেখানে তিনি সরাসরি বলেন, “ভারত রাষ্ট্র ধ্বংস হোক!”। এখানেই শেষ নয়, “আইন যখন অন্যায়ের পক্ষ নেয়, তখন আইন ভাঙাই ন্যায়ের পক্ষে”—একাধিক মন্তব্য করে তিনি আইন ভাঙার পক্ষেই সাফাই গেয়েছেন। বিচারপতি অমৃতা সিনহা-র একাধিক রায়কে তীব্র কটাক্ষ করে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর স্বার্থরক্ষা করছে এবং সংখ্যালঘুদের প্রতি অবিচার করছে। আদালতের রায় অমান্য করে আন্দোলন গড়ে তোলার ডাক দিয়েছেন তিনি।
ইন্দ্রানুজ শুধুমাত্র বর্তমান পরিস্থিতি নয়, অতীতের বিতর্কিত ঘটনাগুলোকেও সামনে এনেছেন। বাবরি মসজিদ ধ্বংসের প্রসঙ্গ তুলে তিনি দাবি করেছেন, রাম মন্দির ব্রাহ্মণ্যবাদী ফ্যাসিবাদের প্রতীক, তাই এটিকে গুঁড়িয়ে দিয়ে বাবরি মসজিদ পুনর্নির্মাণ করা উচিত। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের সরাসরি বিরোধিতা করে ইন্দ্রানুজ বলেছেন, “বাবরি ভেঙে যারা ভেবেছিল সব ঠিক হয়ে যাবে, তারা হিন্দুত্ববাদী আগ্রাসনের পথ প্রশস্ত করেছে। রাম মন্দির কোনও ধর্মীয় স্থল নয়, এটি ফ্যাসিবাদের প্রতীক।” আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি বিদ্রোহের ডাক দেওয়া আইন বিশেষজ্ঞদের মতে আদালত অবমাননার আওতায় পড়ে।
ইন্দ্রানুজ রায় শুধুমাত্র যাদবপুরের ছাত্র আন্দোলনের মুখই নন, তিনি Revolutionary Students’ Front (RSF)-এর সক্রিয় সদস্য। RSF একাধিকবার রাষ্ট্র ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে চরমপন্থী অবস্থান নিয়েছে, যা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার নজরে রয়েছে। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর গাড়ির সামনে শুয়ে পড়ার ঘটনায় পুলিশের তরফে ইন্দ্রানুজের বিরুদ্ধে তিনটি এফআইআর দায়ের হয়েছে। সরকারি কাজে বাধা দেওয়া, শ্লীলতাহানি এবং সম্পত্তি নষ্টের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, “মত প্রকাশের স্বাধীনতা গুরুত্বপূর্ণ, তবে তা যদি রাষ্ট্র, আইন ও বিচারব্যবস্থার বিরুদ্ধে সরাসরি বিদ্বেষ ছড়ায়, তবে তা আদালত অবমাননার শামিল।” ইন্দ্রানুজের মন্তব্য শুধুমাত্র রাজনৈতিক বিতর্ক নয়, আদালতের নিরপেক্ষতা ও দেশের বিচারব্যবস্থার প্রতি আঘাত বলেই মনে করছেন অনেকেই। সুপ্রিম কোর্টের রায়কে প্রত্যাখ্যান করা, বিচারপতিদের বিরুদ্ধে কটাক্ষ করা, আইন ভাঙার পক্ষে সাফাই গাওয়া—এসবই গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য হুমকি।
আরও পড়ুনঃ অর্থ, সম্মান, সাফল্য! গজকেশরী যোগে বদলে যাবে এই রাশিগুলির ভাগ্য?
ইন্দ্রানুজ রায়ের বক্তব্য নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক তরজা শুরু হয়েছে। বিজেপি ও দক্ষিণপন্থী সংগঠনগুলি তার বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছে। অন্যদিকে, কিছু বামপন্থী সংগঠন তার অবস্থানকে সমর্থন করলেও, আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আদালত অবমাননার জন্য তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এখন দেখার বিষয়, রাজ্য প্রশাসন এবং আদালত তার এই উগ্র মন্তব্যের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেয়।






