করোনার ভয়াবহতা বিশ্বের সব দেশেই ছড়িয়েছে। কোথাও খুব বেশি আর কোথাও একটু হলেও কম। কিন্তু মানুষের রোজকার বেঁচে থাকার লড়াই সব দেশে সমান ভাবে চলছে। করোনার ত্রাসে বাংলাদেশের পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে দাঁড়াচ্ছে। যত পরীক্ষা করানো হচ্ছে তত বেশি সংক্রামিত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। এখনও পর্যন্ত ৫৪,৭৩৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। যার মধ্যে ৬,৪৬২ জনকে শনাক্ত হয়েছেন। ইতিমধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১৫৫ জনের। অথচ সুস্থ হয়ে উঠেছে মাত্র ১৩৯ জন। বাংলাদেশের হাল এত খারাপ তার মধ্যে এলো আরও খারাপ সংবাদ। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে সৌদি আরবে করোনায় সবচেয়ে বেশি মারা গেছে বাংলাদেশি নাগরিকেরা।
সৌদিতে এখনও পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ১৮,৮১১ জন। মৃত্যু হয়েছে ১৪৪ জনের। আর তাঁদের মধ্যে ৪৫ জনই বাংলাদেশী। রিয়াদের বাংলাদেশ দূতাবাস ও জেড্ডার কনস্যুলেট সূত্রে খবর, সৌদিতে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৬৯০ জন বাংলাদেশি। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে সৌদি আরবেই সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি মারা গেছেন ও সংক্রমিত হয়েছেন।
শুধু তাই নয়, ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি সৌদিতে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের একটা বড় অংশ খাদ্যসংকটে ভুগছেন। সেইসঙ্গে ফ্রি ভিসায় যাওয়া কর্মীদের ওপর নিজদেশে ফেরার নির্দেশ জারি হয়েছে। কারণ করোনার সংকটকালে তেলের দাম সর্বনিম্ন হয়ে গিয়েছে। এতে বড়সড় আর্থিক সংকটের আঁচ করছেন দেশের প্রশাসন এবং এতে সব থেকে বেশি সমস্যায় পড়তে যাচ্ছেন অভিবাসী কর্মীরা।
সৌদি আরবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ জানিয়েছেন, বাংলাদেশী কর্মীদের যে খাদ্যসংকট সৃষ্টি হয়েছে তা দ্রুততার সঙ্গে সমাধানের চেষ্টা চলছে। ওয়েবসাইট ও ফেসবুকে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে যাতে যাঁদের সাহায্যের প্রয়োজন, তারা তাঁদের নাম নথিভূক্ত করতে পারেন। এখনো অবধি প্রায় ৫,০০০ লোককে খাবার দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া আইওএম, আন্তর্জাতিক রেড ক্রিসেন্ট-সহ আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং সচ্ছল প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকরাও বাড়িয়ে দিচ্ছেন সাহায্যের হাত।





