গরম পড়েছে আগেভাগেই! মাত্র মার্চ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ, অথচ চৈত্রের দাবদাহ যেন আগেভাগেই হাজির। সকাল থেকেই রোদের তেজ, বেলা বাড়তেই যেন চামড়া পুড়িয়ে দেওয়া উত্তাপ। রাস্তায় বেরোলেই ঘামে ভিজছে জামাকাপড়, পাখার হাওয়ায় মিলছে সামান্য স্বস্তি। শুধু শহর নয়, গ্রামেও একই অবস্থা। চারিদিক থেকে ভেসে আসছে একটাই কথা— “এখনই এত গরম! তাহলে বৈশাখে কী হবে?”
শুধু গরমই নয়, বাতাসেও যেন একটা অস্বস্তিকর ভাব। ফাগুনের শেষে যেখানে বসন্তের আমেজ থাকার কথা, সেখানে কার্যত গ্রীষ্মের পদধ্বনি। বিশেষত দোল উৎসবের আগে এমন আবহাওয়া অনেকের মন খারাপ করে দিয়েছে। আবহাওয়াবিদদের কথায়, এবারের মার্চ অনেকটাই ব্যতিক্রমী। কিন্তু কেন? সত্যিই কি দোলে স্বস্তির কোনও সম্ভাবনা নেই? নাকি উৎসবের দিনে নতুন চমক অপেক্ষা করছে?
দক্ষিণবঙ্গে এই মুহূর্তে স্বস্তির কোনও সম্ভাবনা নেই বলেই জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। কলকাতা-সহ একাধিক জেলায় গরম আরও বাড়বে। সোমবার শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩১.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সর্বনিম্ন ২২.৬ ডিগ্রি। কিন্তু এখানেই শেষ নয়, সপ্তাহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তিন থেকে পাঁচ ডিগ্রি পর্যন্ত পারদ চড়বে। সর্বনিম্ন তাপমাত্রাও বাড়বে কয়েক ডিগ্রি। ফলে রাতেও গরম কমার সম্ভাবনা নেই। বিশেষত দোল উৎসবের দিন কেমন থাকবে আবহাওয়া? উত্তরের কিছু অংশ বাদ দিলে, দক্ষিণবঙ্গের বেশিরভাগ জেলায় থাকবে প্রচণ্ড গরম। কোনও রকম বৃষ্টির পূর্বাভাস নেই। ফলে রঙের উৎসবে স্বস্তি পাওয়ার কোনও আশা নেই। উল্টে দুপুরের পর রোদ আরও ঝাঁঝালো হবে বলে মনে করা হচ্ছে। তাই যারা রঙ খেলতে বেরোবেন, তারা সাবধান! রোদে বেশি সময় থাকলে ডিহাইড্রেশন, হিটস্ট্রোকের আশঙ্কা থাকছে।
দক্ষিণবঙ্গ যখন রোদের তাপে পুড়বে, তখন উত্তরবঙ্গে একটানা দুর্যোগের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। মঙ্গলবার থেকেই শুরু হবে বৃষ্টি, দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ে থাকবে হালকা বৃষ্টিপাত। বুধবার থেকে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহারেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হতে পারে। আবহাওয়া দপ্তর ইতিমধ্যেই হলুদ সতর্কতা জারি করেছে। এই দুর্যোগ চলবে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার পর্যন্ত। তবে আশ্চর্যজনকভাবে, বৃষ্টি হলেও উত্তরবঙ্গে তাপমাত্রা কিছুটা বাড়বে। বিশেষত দিন ও রাতের পারদ দুই-চার ডিগ্রি পর্যন্ত চড়তে পারে। অর্থাৎ ঠান্ডা থাকবে না একেবারেই, বরং আদ্রতা থাকবে বেশি।
আরও পড়ুনঃ শনিদেবের কৃপায় আর্থিক উন্নতি! মার্চের শেষে কোন রাশির ভাগ্য খুলতে চলেছে?
একদিকে দক্ষিণবঙ্গের অসহনীয় গরম, অন্যদিকে উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির ঝাপটা! এবারের দোল কারও জন্যই খুব স্বস্তির হতে চলেছে না বলেই মনে করা হচ্ছে। শহরবাসীকে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে রঙ খেলতে হবে, অন্যদিকে পাহাড়ের পর্যটকদের থাকতে হবে ঝড়বৃষ্টির প্রস্তুতিতে। তাই যারা দোলের প্ল্যান করছেন, তারা আগেভাগেই সতর্ক হয়ে যান। দক্ষিণবঙ্গে বেরোলে জল সঙ্গে রাখুন, আর উত্তরবঙ্গে ঘুরতে গেলে ছাতা-রেইনকোট নিতে ভুলবেন না। আবহাওয়ার এই খামখেয়ালি ভাব যে উৎসবের আনন্দ কিছুটা মাটি করতে পারে, সেটাই বলছে পূর্বাভাস।





