“গত ছয়-সাত দশকে কল্পনা করাও মুশকিল ছিল এমন ভয়হীন ভোট”, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্যে সরগরম বাংলা, রেকর্ড ভোটে চড়ল রাজনৈতিক উত্তাপ!

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটকে ঘিরে বুধবার রাজনৈতিক মহলে তুমুল চর্চা শুরু হয়েছে। একদিকে রেকর্ড ভোটদানের হার, অন্যদিকে শাসক-বিরোধী শিবিরের তীব্র অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ, সব মিলিয়ে দিনভর উত্তপ্ত থেকেছে রাজ্যের একাধিক এলাকা। এই পরিস্থিতির মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভোটের পরিবেশ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন, যা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এদিন বলেন, গত ছয়-সাত দশকে এমন ভয়হীন পরিবেশে ভোট হওয়া কল্পনাও করা যেত না। তাঁর কথায়, “মানুষ এবার ভয়মুক্ত হয়ে ভোট দিচ্ছে, যা দেশের সংবিধান এবং শক্তিশালী গণতন্ত্রের প্রতীক।” তিনি পশ্চিমবঙ্গের ভোটারদের প্রশংসা করে জানান, মানুষ এখন নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন এবং সক্রিয়ভাবে ভোটে অংশ নিচ্ছেন। তাঁর এই মন্তব্য স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ ভোটকে ঘিরে রাজ্যে বারবার অশান্তির অভিযোগ উঠেছে।

এদিন দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ হয় কলকাতা-সহ মোট সাতটি জেলার ১৪২টি আসনে। নির্বাচন কমিশনের সূত্র অনুযায়ী, বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত ভোট পড়েছে প্রায় ৮৯.৯৯ শতাংশ, যা সাম্প্রতিক সময়ে নজিরবিহীন বলেই মনে করা হচ্ছে। এত বড় সংখ্যায় ভোটারদের অংশগ্রহণ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে গণতন্ত্রের প্রতি মানুষের আস্থা ও আগ্রহেরই প্রতিফলন। তবে এই উচ্চ ভোটদানের মাঝেও বিভিন্ন জায়গা থেকে অশান্তির খবর সামনে এসেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

এই দফার ভোটে বিশেষ নজর ছিল ভবানীপুর কেন্দ্রে, যা এবারের নির্বাচনের অন্যতম ভরকেন্দ্র হিসেবে উঠে এসেছে। একুশের নির্বাচনে যেমন নন্দীগ্রাম কেন্দ্রবিন্দু ছিল, যেখানে মুখোমুখি লড়াই হয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শুভেন্দু অধিকারীর মধ্যে, তেমনই এবারে ভবানীপুরে সেই দুই নেতার রাজনৈতিক লড়াই নতুন মাত্রা পেয়েছে। দিনভর এই কেন্দ্রে উত্তেজনার পরিবেশ লক্ষ্য করা যায়, যা নন্দীগ্রামের অতীত পরিস্থিতির সঙ্গে অনেকটাই মিলে যায়।

আরও পড়ুন: “আমি পুষ্পারাজ, ঝুকেগা নেহি” এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট অজয় পাল শর্মার কড়া বার্তার পর পাল্টা হুঙ্কার জাহাঙ্গির খানের! ফলতায় উত্তপ্ত রাজনৈতিক তরজা!

ভোটের দিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গুরুতর অভিযোগ তুলে বলেন, “গতকাল রাতে সারা বাংলাজুড়ে অত্যাচার হয়েছে, আমি সারারাত জেগে ছিলাম।” তিনি প্রশ্ন তোলেন, “এটা কী গুন্ডারাজ চলছে? দেশকে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে?” তাঁর দাবি, বিজেপি জোর করে রিগিং করার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে শুভেন্দু অধিকারী সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি করে বলেন, কিছু বাংলাদেশি মুসলমানকে এনে রাখা হয়েছিল, যাদের নাম ভোটার তালিকায় নেই। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁরা উসকানি দিচ্ছিলেন এবং তিনি ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু পরে তাঁদের তাড়া করে সরিয়ে দেওয়া হয়। এই ধরনের মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়েছে।

সব মিলিয়ে দ্বিতীয় দফার ভোটে একদিকে যেমন নজিরবিহীন ভোটদানের ছবি উঠে এসেছে, তেমনই অন্যদিকে রাজনৈতিক সংঘাত, অভিযোগ এবং উত্তেজনা এই নির্বাচনের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তুলেছে। এখন নজর চার তারিখের ফলাফলের দিকে, যেখানে স্পষ্ট হবে এই তীব্র লড়াইয়ের চূড়ান্ত পরিণতি।

আরও অন্যান্য খবর