ফেলনার থেকেও কাদম্বিনী ছাড়াই ছিল বেশি যন্ত্রণার! ছোট্ট অভিনেত্রী মেঘানের আবেগঘন স্বীকারোক্তি!

ছোটদের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য আমরা অনেক কিছু করি, কিন্তু কখনও কি ভেবে দেখেছি, তাদেরও কিছু মুহূর্ত থাকে যা তারা কোনওদিন ভুলতে পারে না? বিশেষ করে, যদি সেই মুহূর্ত কোনও স্বপ্নের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়ে হারিয়ে ফেলার হয়? ছোট বয়সেই অনেক কিছু হারানোর বেদনা বোঝার শক্তি জন্মে যায় কিছু শিশু শিল্পীদের মধ্যে। এমনই একজন হল মেঘান চক্রবর্তী, যাকে দর্শকরা একাধিক ধারাবাহিকের মাধ্যমে চিনেছে ও ভালোবেসেছে।

এই ছোট্ট মিষ্টি মেয়েটি অভিনয়ের মধ্য দিয়েই ছোট থেকেই মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছে। তার সারল্য, অভিব্যক্তি, সংলাপ বলার ধরন— সবই যেন এক নিখুঁত শিল্পের প্রতিচ্ছবি। কিন্তু কখনও কখনও বাস্তবতার কঠোর ধাক্কা তাকে বেশ কিছু ভালোবাসার জায়গা ছেড়ে যেতে বাধ্য করেছে। ‘প্রথমা কাদম্বিনী’ এবং ‘ফেলনা’— এই দুটি ধারাবাহিকে অভিনয় করলেও, একটিতেও সম্পূর্ণভাবে নিজের জায়গা ধরে রাখতে পারেনি মেঘান। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, কোন ধারাবাহিক থেকে বাদ পড়ার কষ্ট সবচেয়ে বেশি ছিল তার জন্য?

টেলিভিশনের জগতে শিশুশিল্পীদের জন্য একটা বড় চ্যালেঞ্জ হল, গল্পের বাঁক বদল হলে তাদের চরিত্র হারিয়ে যাওয়া কিংবা সময়ের প্রয়োজনে বড় অভিনেতাদের স্থান করে দেওয়া। মেঘান চক্রবর্তীর ক্ষেত্রেও ঘটেছিল একই ঘটনা। ‘প্রথমা কাদম্বিনী’ ধারাবাহিকে ছোট কাদম্বিনী চরিত্রে তার অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করেছিল। কিন্তু গল্প এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সিরিয়ালে বড় কাদম্বিনী চরিত্র আনা হয়, ফলে বাদ পড়ে যায় মেঘান। এরপর সে সুযোগ পায় ‘ফেলনা’ ধারাবাহিকে, যেখানে প্রধান চরিত্রে ছিল সে। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে, করোনা পরিস্থিতিতে শিশুদের শুটিং ফ্লোরে আসার উপর বিধিনিষেধ জারি হয়, আর সেই কারণেই বাধ্য হয়ে গল্পে লিপ নেওয়া হয়। ফলে ছোট মেঘানকে বাদ দিয়ে বড় ফেলনার চরিত্রে চলে আসেন হিয়া দে। পরপর দু’টি ধারাবাহিক থেকে এভাবে সরে যেতে হওয়া মেঘানের জীবনে ছিল এক বড় ধাক্কা।

আরও পড়ুনঃ সিকিমে ঢুকতেই দিতে হবে টাকা! পর্যটকদের জন্য বাধ্যতামূলক ‘এন্ট্রি ফি’, বাড়ছে বেড়ানোর খরচ

যখন কেউ কোনও চরিত্রের সঙ্গে একাত্ম হয়ে যায়, তখন সেটি ছেড়ে যেতে হওয়া সহজ নয়। দর্শকরা যখন ভাবছিল যে ‘ফেলনা’ থেকে বাদ পড়াই মেঘানের সবচেয়ে বড় দুঃখ, তখনই সে নিজে এক সাক্ষাৎকারে জানায় ‘ফেলনা নয়, বরং কাদম্বিনী ছাড়ার সময় আমার আরও বেশি কষ্ট হয়েছিল!’ কিন্তু কেন? এ নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই মেঘানের মা জানান, ‘ফেলনার সময় মেঘান বুঝেছিল যে এটি করোনা পরিস্থিতির জন্য হচ্ছে, কিন্তু কাদম্বিনীর সময় এরকম কিছু ছিল না। সেই সময় হঠাৎ করেই ওকে সরিয়ে দেওয়া হয়, তাই কষ্টটা বেশি ছিল।’

বাচ্চারা সাধারণত কষ্ট সহজে ভুলে যায়, কিন্তু মেঘানের ক্ষেত্রে সেই অভিজ্ঞতা আজও তাজা। হয়তো সেই ছোট্ট বয়সেই বুঝে গিয়েছিল, ইন্ডাস্ট্রির বাস্তবতা কতটা কঠিন হতে পারে! তবুও, মেঘান থেমে নেই। নতুন কোনও সুযোগের অপেক্ষায় সে এখন আরও বেশি পরিণত। তাহলে কি আবারও ছোট পর্দায় ফিরবে মেঘান? নাকি এই অভিজ্ঞতাই তাকে আরও বড় কোনও মঞ্চের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে? দর্শকদের মনে এখন এই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে!

Khabor24x7 Desk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর