পশ্চিমবঙ্গের (west bengal)রাজনৈতিক অঙ্গনে সাম্প্রতিক সময়ে উত্তেজনার পারদ চড়ছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে রাজনৈতিক নেতাদের মন্তব্য ও কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা তুঙ্গে। বিশেষ করে মুর্শিদাবাদের ভরতপুর বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের সাম্প্রতিক মন্তব্য ও তার পরবর্তী প্রতিক্রিয়া রাজনৈতিক মহলে নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে।
বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের রাজনৈতিক জীবন বরাবরই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। একাধিকবার দলবদল, বিতর্কিত মন্তব্য এবং শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে শোকজ়— সব মিলিয়ে তাঁর রাজনৈতিক পথচলা কম উত্তাল নয়। সম্প্রতি বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে তাঁর করা মন্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তৃণমূল কংগ্রেসের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি তাঁকে শোকজ় নোটিস পাঠায়। তবে হুমায়ুন কবীর তাঁর অবস্থানে অনড় থেকে জবাব দিয়েছেন, যা দলকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি।
সোমবার বিধানসভায় তৃণমূলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি বৈঠকে বসে হুমায়ুন কবীরের জবাব নিয়ে আলোচনা করে। কমিটি তাঁর জবাবে অসন্তুষ্ট প্রকাশ করে এবং তাঁকে মঙ্গলবার সশরীরে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। কমিটির এই সিদ্ধান্তে স্পষ্ট যে, দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় তৃণমূল কংগ্রেস কোনও আপস করতে রাজি নয়।
আরও পড়ুনঃ সুপারহিট হওয়ার ‘শাস্তি’? চিরঞ্জিত-প্রভাত রায়ের ষড়যন্ত্রেই কি ইন্ডাস্ট্রি থেকে মুছে গেলেন সঞ্জীব দাশগুপ্ত!
হুমায়ুন কবীরের রাজনৈতিক জীবনে এটাই প্রথমবার নয় যখন তিনি শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে শোকজ় হলেন। এর আগেও তিনি বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য শোকজ় হয়েছেন এবং সাসপেন্ডও হয়েছেন। তবে প্রতিবারই তিনি নিজের অবস্থানে অনড় থেকেছেন। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। টিভি৯ বাংলায় দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, “আমি আগে একজন মুসলিম, তারপর দলের নেতা, তারপর দলের অনুগত সৈনিক।”
এখন প্রশ্ন উঠছে, তৃণমূল কংগ্রেস কি হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেবে? দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় তৃণমূলের কঠোর অবস্থান ইতিমধ্যে প্রকাশ পেয়েছে। তবে হুমায়ুন কবীরের মতো অভিজ্ঞ নেতার বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা চলছে। সকলের নজর এখন তৃণমূলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।






