মৃত্যু নিয়ে সাধারণত মানুষ খুব বেশি কথা বলতে চান না। কিন্তু নানা পাটেকর ছিলেন ব্যতিক্রম। জীবন, অভিনয় কিংবা মৃত্যু, কোনও বিষয় নিয়েই নিজের ভাবনা প্রকাশ করতে কখনও পিছপা হননি এই বর্ষীয়ান অভিনেতা। মৃত্যুর কয়েক সপ্তাহ আগে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের শেষকৃত্য নিয়েও এমন কিছু কথা বলেছিলেন তিনি, যা এখন তাঁর আকস্মিক প্রয়াণের পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে। জীবন সম্পর্কে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ছিল বেশ বাস্তববাদী, আর মৃত্যুকেও তিনি দেখতেন জীবনেরই স্বাভাবিক পরিণতি হিসেবে।
নানা পাটেকরের কথায়, মৃত্যুর পরের আনুষ্ঠানিকতা নিয়ে তাঁর বিশেষ আগ্রহ ছিল না। বরং শেষযাত্রায় লোক দেখানো ভিড় কিংবা বড় কোনও আয়োজন তিনি পছন্দ করতেন না। জীবনের শেষ পর্বটাকেও নিজের মতো করেই দেখতে চেয়েছিলেন তিনি। তাঁর এই বক্তব্যে যেমন ছিল খানিক রসিকতা, তেমনই ছিল গভীর জীবনদর্শন। মৃত্যুকে ভয় পাওয়ার বদলে সেটিকে মেনে নেওয়ার যে মানসিকতা তাঁর কথায় ফুটে উঠেছিল, সেটিই অনুরাগীদের কাছে সবচেয়ে বেশি মনে ধরেছিল।
এর আগেও নিজের পেশা ও জীবন নিয়ে অত্যন্ত খোলামেলা কথা বলেছিলেন নানা। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, একজন শিল্পীর জীবন অনেকটাই অন্যের চরিত্র হয়ে কাটে। আজ একটি চরিত্র, কাল অন্য একটি চরিত্র, এইভাবেই নিজের জন্য আলাদা করে বাঁচার সময় যেন ক্রমশ কমে যায়। তাঁর কথায়, একদিন কাজ থামলে নিজের কথা ভাববেন, কিন্তু সেই অবসর আর যেন আসতেই চায় না। মঞ্চের অন্ধকার এবং দর্শকের হাততালিকাকেই তিনি একজন শিল্পীর জীবনের অন্যতম বড় আনন্দ বলে মনে করতেন। এমনকী হাততালির শব্দ থেমে যাওয়াকেও তিনি এক অর্থে শিল্পীর মৃত্যুর সঙ্গে তুলনা করেছিলেন।
আরও পড়ুন: ‘ফিরছি বিরতির পরে’ আর বলা হবে না, চিরবিরতিতে সংবাদ পাঠিকা পাপিয়া সিংহ! ৪৭-এ থামল পরিচিত সেই কণ্ঠস্বর, কি হয়েছিল তাঁর?
আজ যখন সেই মানুষটিই আর নেই, তখন তাঁর পুরনো কথাগুলিই যেন অন্য অর্থ নিয়ে সামনে আসছে। ৭৫ বছর বয়সে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে আকস্মিক প্রয়াণ হয়েছে নানা পাটেকরের। গোয়ার একটি হাসপাতালে চিকিৎসকেরা প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও শেষরক্ষা হয়নি। কয়েক দশকের অভিনয়জীবনে ‘ক্রান্তিবীর’, ‘পরিন্দা’, ‘প্রহার’, ‘অব তক ছাপ্পান’, ‘ওয়েলকাম’-সহ অসংখ্য ছবিতে নিজের ছাপ রেখে গিয়েছেন তিনি। পর্দার সেই দাপুটে অভিনেতার চলে যাওয়ার পর তাই তাঁর অভিনয়ের পাশাপাশি জীবন ও মৃত্যু নিয়ে বলা কথাগুলিও নতুন করে ফিরে আসছে মানুষের আলোচনায়।






‘ভগবান শুধু আশা দেন, কাজ কিছুই করেন না!’ ঈশ্বরকে নিয়ে বিস্ফো’রক জাভেদ আখতার