হাওড়ার সালকিয়ার মেয়ে সায়ন্তনী ঘোষের সংগীতজীবনের পথচলা এখন নতুন দিকে এগোচ্ছে। জি বাংলার জনপ্রিয় গানের রিয়্যালিটি শো ‘সারেগামাপা’-র মঞ্চে নিজের গানের প্রতিভা দিয়ে দর্শকদের মন জয় করেছিলেন তিনি। প্রতিযোগিতার ফাইনালে পৌঁছেও শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়নের ট্রফি হাতে ওঠেনি তাঁর। তবে প্রতিযোগিতায় জয়ী না হলেও দর্শকদের ভালোবাসা পেয়েছেন সায়ন্তনী। সম্প্রতি তাঁকে দেখা গিয়েছে দেবের সঞ্চালনায় জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো ‘দাদাগিরি’-র মঞ্চে। গানের প্রতিযোগিতার মঞ্চ থেকে অন্য একটি অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতি আবারও আলোচনায় নিয়ে এসেছে এই তরুণী গায়িকাকে। কারণ, সায়ন্তনীর এই যাত্রা শুধু গানের প্রতিভা প্রকাশের নয়, নিজের ভয় কাটিয়ে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠারও গল্প।
সালকিয়ার একটি সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে উঠেছেন সায়ন্তনী। ছোটবেলা থেকেই তাঁর স্বভাব ছিল বেশ লাজুক। সকলের সামনে গিয়ে নিজের কথা বলা কিংবা ভিড়ের মধ্যে আলাদা করে নজর কাড়ার বদলে পিছনের সারিতে থাকতেই বেশি স্বচ্ছন্দ বোধ করতেন তিনি। নিজের মধ্যে প্রতিভা থাকলেও তা প্রকাশ করার ক্ষেত্রে সংকোচ কাজ করত। কিন্তু ‘সারেগামাপা’-র মঞ্চে আসার পর ধীরে ধীরে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। প্রতিযোগিতার প্রতিটি পর্বে নিজের গানের দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি আত্মবিশ্বাসও অর্জন করতে থাকেন তিনি। যত প্রতিযোগিতা এগিয়েছে, ততই মঞ্চে নিজেকে আরও ভালোভাবে তুলে ধরেছেন সায়ন্তনী। তাঁর গান দর্শকদের প্রশংসা পেয়েছে। এমনকী ফাইনালে পৌঁছনোর পর অনেকেই তাঁকে সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবেও দেখতে শুরু করেছিলেন।
সায়ন্তনীর এই সংগীতযাত্রায় সবচেয়ে বড় ভূমিকা রয়েছে তাঁর মা নেলি ঘোষের। মেয়ের মধ্যে গানের প্রতিভা প্রথম চিনতে পেরেছিলেন তিনিই। সায়ন্তনীর লাজুক স্বভাবের কারণে নিজের প্রতিভা সকলের সামনে তুলে ধরতে যে অসুবিধা হত, সেই বাধা কাটিয়ে উঠতে মায়ের উৎসাহ তাঁকে সাহায্য করেছে। গানের প্রতি মেয়ের আগ্রহকে গুরুত্ব দিয়ে তাঁকে এগিয়ে যাওয়ার সাহস জুগিয়েছেন নেলি। কঠিন সময়ে মেয়ের পাশে থেকেছেন এবং তাঁর উপর বিশ্বাস রেখেছেন। অন্যদিকে, সায়ন্তনীর বাবা পোশাকের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের পরিবেশ থেকে উঠে এসে বড় একটি গানের প্রতিযোগিতায় নিজের জায়গা তৈরি করা সহজ ছিল না। সেই জায়গায় পৌঁছতে সায়ন্তনীর পরিশ্রমের পাশাপাশি পরিবারের সমর্থনও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
আরও পড়ুন: ‘এমএলএ-র মাইনে কত?’ সায়নের প্রশ্নে হোঁচট খেয়ে ফোন করে জানতে হল সায়ন্তিকাকে! বরানগরে কী কী কাজ করেছেন, দিলেন তারও হিসেব
‘সারেগামাপা’-র ফাইনালে পৌঁছেও শেষ পর্যন্ত বিজয়ীর মুকুট পাননি সায়ন্তনী। প্রতিযোগিতার চ্যাম্পিয়ন হন আয়ুষ গুপ্তা। তবে ফলাফল যাই হোক না কেন, এই মঞ্চ থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা এবং দর্শকদের ভালোবাসাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন গায়িকা। ফাইনালের পর সামাজিক মাধ্যমে নিজের অনুভূতির কথা ভাগ করে নিয়েছিলেন তিনি। গানের মঞ্চের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং দর্শকদের ধন্যবাদ জানিয়ে সায়ন্তনী লিখেছিলেন, “আপনাদের আশীর্বাদ ছিল বলেই হয়তো ফাইনালের মঞ্চে গলা কাঁপেনি, নির্ভয়ে গাইতে পেরেছি।” তাঁর এই কথাতেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে, প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সময় নিজের ভয় কাটিয়ে ওঠা তাঁর কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। একইসঙ্গে যাঁদের গানের অনুরোধ প্রতিযোগিতার মঞ্চে রাখতে পারেননি, তাঁদের অন্য কোনও মঞ্চে গান শোনানোর প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন তিনি।
চ্যাম্পিয়ন হতে না পারলেও সায়ন্তনীর সংগীতজীবন থেমে নেই। বরং ‘সারেগামাপা’-র অভিজ্ঞতা তাঁকে নতুনভাবে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। দর্শকদের ভালোবাসা এবং মায়ের অনুপ্রেরণাকে সঙ্গী করেই আগামী দিনে নিজের গানের পরিচিতি আরও বাড়াতে চান তিনি। একটি রিয়্যালিটি শোয়ের ফলাফল যে কোনও শিল্পীর ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে না, সায়ন্তনীর পথচলা তারই উদাহরণ। ফাইনালে ট্রফি না পেলেও নিজের গানের মাধ্যমে শ্রোতাদের মনে জায়গা করে নিতে পেরেছেন তিনি। প্রতিযোগিতার মঞ্চে পাওয়া পরিচিতি এখন তাঁর পরবর্তী কাজের পথও সহজ করছে। ফলে জয়ী না হওয়ার আক্ষেপে থেমে না থেকে নিজের লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে চলাই এখন তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
সম্প্রতি দেবের সঞ্চালনায় ‘দাদাগিরি’-র মঞ্চে সায়ন্তনীর উপস্থিতি তাঁর এই যাত্রায় নতুন সংযোজন। ‘সারেগামাপা’-তে যাঁকে দর্শকরা গানের প্রতিযোগী হিসেবে দেখেছেন, এবার তাঁকে দেখা গেল অন্য একটি জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শোতে। এই উপস্থিতি তাঁর পরিচিতির পরিধি আরও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করেছে। গানের মঞ্চে নিজের ভয় কাটিয়ে ওঠা থেকে শুরু করে দর্শকদের সামনে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজেকে তুলে ধরা, সায়ন্তনীর এই পরিবর্তন তাঁর যাত্রার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। চ্যাম্পিয়নের ট্রফি হাতে না উঠলেও নিজের প্রতিভা এবং পরিশ্রমের জোরে তিনি যে দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছেন, তা স্পষ্ট। তাই সায়ন্তনীর কাছে সাফল্যের অর্থ শুধু একটি প্রতিযোগিতায় জয় নয়, বরং নিজের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে নতুন সুযোগের দিকে এগিয়ে যাওয়া।






‘ভগবান শুধু আশা দেন, কাজ কিছুই করেন না!’ ঈশ্বরকে নিয়ে বিস্ফো’রক জাভেদ আখতার