কলকাতার(kolkata) রাজপথে সকালে হাঁটতে বেরিয়ে যদি দেখেন, রাস্তার ধারে সাঁটানো পোস্টারে বড় বড় হরফে লেখা— “টাকা, গাড়ি, মোবাইল দিন, দক্ষিণ কলকাতায় পদ নিন!” সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ফোন নম্বরও! মুহূর্তের মধ্যে চোখ আটকে যাবে, মাথায় ঘুরপাক খাবে— এটা কীসের বিজ্ঞাপন? কে দিচ্ছে এই অফার? পদের বিনিময়ে টাকা নেওয়া হচ্ছে! কিন্তু কীসের পদ? সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বভাবতই কৌতূহল, আর রাজনীতির ময়দানে নতুন করে বিতর্কের ঝড় উঠেছে।
এতদিন সরকারি চাকরি বা বেসরকারি সংস্থার কাজ পেতে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ শোনা যেত। কিন্তু এবার রাজনীতির ময়দানেও কি সেটাই হচ্ছে? মানুষ যদি ভোট দিয়ে নেতা তৈরি করেন, তবে কি টাকা দিয়ে পদ কেনা যায়? সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন উঠছে, যদি সত্যিই টাকার বিনিময়ে রাজনৈতিক পদ পাওয়া যায়, তবে ভবিষ্যতে রাজনীতি কি শুধুই বড়লোকদের খেলায় পরিণত হবে? এই বিতর্কের মধ্যেই কলকাতার ঢাকুরিয়ায় বিজেপির অফিসের সামনে এমনই চাঞ্চল্যকর পোস্টার ঘিরে সরগরম রাজ্য রাজনীতি।
বাঁকুড়া, হুগলি, বসিরহাটের পর এবার খাস কলকাতার বুকে বিজেপির গোষ্ঠীকোন্দলের প্রকাশ্য নজির মিলল। মঙ্গলবার সকালে ঢাকুরিয়া-সহ দক্ষিণ কলকাতার একাধিক এলাকায় এই পোস্টার পড়তেই রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে। পোস্টারে বিজেপির দক্ষিণ কলকাতার জেলা সভাপতি অনুপম ভট্টাচার্য এবং জেলার সাধারণ সম্পাদক জিতেন্দ্র সিং-এর ছবি জ্বলজ্বল করছে। আর সেই ছবির নিচেই লেখা— “টাকা, গাড়ি, মোবাইল দিন, দক্ষিণ কলকাতায় পদ নিন! যোগাযোগ করুন জেলা সভাপতি এবং জেলা সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে!” এই পোস্টারের নীচে বড় হরফে লেখা— ‘সৌজন্যে দক্ষিণ কলকাতা বিজেপি কর্মীবৃন্দ!’ অর্থাৎ, দলেরই কেউ এই পোস্টার সাঁটিয়েছেন! ফলে এটা বিরোধীদের চাল নয়, বরং দলের অন্দরেই যে চরম অসন্তোষ দানা বেঁধেছে, তার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে।
আরও পড়ুনঃ সুপারস্টারদের সঙ্গে পর্দা কাঁপানো নায়িকা, ‘হাওড়া ব্রিজ’-এর সঞ্চালক! আজ কোথায় সন্ধিতা? রহস্য ফাঁস করলেন নিজেই!
ঢাকুরিয়ায় বিজেপির দক্ষিণ কলকাতা জেলা কার্যালয়ের বাইরে এবং আশপাশের এলাকায় এই পোস্টার পড়তেই দলের অন্দরেই চরম অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। স্থানীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে কেউই এ নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি। তবে রাজ্য নেতৃত্ব মনে করছে, এই ঘটনার নেপথ্যে দলেরই কিছু বিক্ষুব্ধ কর্মী রয়েছেন। উল্লেখ্য, দোলের দিনই রাজ্যের ২৫টি সাংগঠনিক জেলার সভাপতিদের নাম ঘোষণা করেছে বিজেপি। কিন্তু এখনও ১৮টি সাংগঠনিক জেলার সভাপতির নাম ঠিক হয়নি। অভিযোগ উঠেছে, ইতিমধ্যে ঘোষিত কিছু জেলার সভাপতির নাম নিয়েও টাকার বিনিময়ে পদ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সেই অসন্তোষ থেকেই কি খোদ কলকাতায় পোস্টার পড়ল?
সোমবারই দিল্লিতে রাজ্যের সাংসদদের নিয়ে বৈঠক করেছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। সেখানে সাংগঠনিক জট কাটাতে আলোচনা হয়। বৈঠকের পর তিনি বলেন, “কিছু জেলায় সাংগঠনিক সমস্যা রয়েছে, সেগুলো সমাধানের চেষ্টা চলছে। বিজেপির সঙ্গে যারা মানানসই নন, তাদের সংগঠনের বাইরে রাখা হচ্ছে।” তবে গোষ্ঠীসংঘাত যে চরমে পৌঁছেছে, তা এই পোস্টার দেখেই স্পষ্ট। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিজেপির অন্দরের এই বিদ্রোহে দলের ভাবমূর্তিই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যদি সত্যিই টাকার বিনিময়ে পদ বিক্রির অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে ২০২৬-এর নির্বাচনের আগে বিজেপিকে বড় ধাক্কা খেতে হতে পারে।





