হাওড়ার বেলগাছিয়ায় রাতারাতি গৃহহীন ১৫ হাজার মানুষ! প্রশাসনের গাফিলতিতেই সর্বনাশ?

বাড়ি মানেই নিরাপত্তা, আশ্রয়। কিন্তু হাওড়ার বেলগাছিয়ার বাসিন্দাদের কাছে এখন ঘরবাড়ি মানেই আতঙ্ক! গত কয়েকদিন ধরে অজানা আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছিলেন তাঁরা। মাটির তলা থেকে আসছিল অদ্ভুত শব্দ, বাড়ির দেওয়ালে দেখা যাচ্ছিল চিড়। অনেকেই স্থানীয় প্রশাসনকে জানিয়েছিলেন, কিন্তু কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অবশেষে সেই আশঙ্কাই সত্যি হল বৃহস্পতিবার গভীর রাতে।

রাতের অন্ধকারে হঠাৎই বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। মাটির তলা ফেটে যায়, জল ছিটকে বেরিয়ে আসে, বাড়ির ভিত কাঁপতে থাকে। এরপরেই শুরু হয় ধস! একের পর এক বাড়ি বসে যেতে থাকে, দেওয়াল ফাটতে শুরু করে। আতঙ্কে প্রাণ হাতে নিয়ে ঘর ছাড়েন বাসিন্দারা। শিশুরা ভয়ে কাঁদতে থাকে, বৃদ্ধদের কেউ কাঁধে তুলে নেয়, কেউ বা জরুরি কাগজপত্র নিয়ে রাস্তায় বেরিয়ে পড়েন। মুহূর্তেই বদলে যায় চেনা এলাকা, যেন ভূমিকম্প হয়েছে!

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরেই এলাকায় জলের পাইপলাইন ফাঁটল ধরেছিল। প্রশাসনকে একাধিকবার জানানো হলেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বৃহস্পতিবার রাতে অতিরিক্ত চাপের ফলে পাইপটি ফেটে যায়, আর সেই জল মাটির নীচের স্তর দুর্বল করে দেয়। ফলাফল— প্রবল ধস, বাড়িঘর ধ্বংস, ১৫ হাজার মানুষ গৃহহীন!

প্রশাসনের তরফে ত্রাণ শিবির খোলা হলেও তা পর্যাপ্ত নয়। বহু মানুষ এখনও খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছেন, খাবার ও পানীয় জলের অভাব প্রকট হয়ে উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, “আমরা আগেই সতর্ক করেছিলাম, কিন্তু কেউ গুরুত্ব দেয়নি। এখন আমাদের ঘরবাড়ি নেই, আমরা কোথায় যাব?”

আরও পড়ুনঃ ভানু বন্দ্যোপাধ্যায় থাকলে উত্তম কুমারও ফ্লপ? মহানায়কের সামনে চাপা পড়লেন ‘বাংলার মেসোমশাই’?

এত বড় দুর্যোগের পরও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সাধারণ মানুষ জানতে চাইছেন, “আমরা কি শুধু ভোটের সময়ই গুরুত্বপূর্ণ?” রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চাপানউতোর। কিন্তু আসল প্রশ্ন, এই ১৫ হাজার মানুষ কি পুনর্বাসন পাবেন? নাকি কয়েকদিন পর ঘটনাটি ধামাচাপা পড়ে যাবে? এখন গোটা রাজ্যের নজর প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles