সঙ্গীত জগতে সফল হতে গেলে প্রতিভার পাশাপাশি দরকার কঠোর পরিশ্রম, ধৈর্য এবং সঠিক সুযোগ। কিন্তু প্রতিযোগিতার দুনিয়ায় সবসময় কি শুধু প্রতিভা যথেষ্ট? ইতিহাস বলে, প্রতিভার সঙ্গে সঙ্গে স্ট্র্যাটেজি এবং বুদ্ধিমত্তাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এমন বহু ঘটনা রয়েছে যেখানে বন্ধুত্ব, বিশ্বাস, এবং কৌশলের লড়াই দেখা গেছে। রিয়েলিটি শোয়ের মঞ্চে একদিকে থাকে স্বপ্নপূরণের লড়াই, অন্যদিকে থাকে সম্পর্কের টানাপোড়েন। কখনও বন্ধুত্ব টিকে থাকে আজীবন, আবার কখনও প্রতিযোগিতার আগুনে সম্পর্কের রং বদলে যায়।
এমনই এক সম্পর্কের গল্প গায়কের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। যিনি আজ বলিউডের প্রথম সারির গায়ক, যিনি একের পর এক হিট গান দিয়ে মাতিয়ে রেখেছেন সঙ্গীতপ্রেমীদের, তাঁর সাফল্যের যাত্রাপথ একেবারেই মসৃণ ছিল না। আর এই যাত্রাপথের শুরুর দিকেই ঘটে গিয়েছিল এমন এক ঘটনা, যা আজও বিতর্কের জন্ম দেয়। ২০০৫ সালে এক জনপ্রিয় রিয়েলিটি শোয়ের হাত ধরে উঠে এসেছিলেন তিনি, পেয়েছিলেন জনপ্রিয়তা। কিন্তু সেই একই মঞ্চে তৈরি হয়েছিল এমন এক পরিস্থিতি, যা বদলে দিয়েছিল এক বন্ধুর ভবিষ্যৎ।
অরিজিৎ সিং নামটা এখন দেশের সেরা গায়কদের তালিকায়। কিন্তু তাঁর সঙ্গীত সফরের শুরুর গল্প জানতে গেলে পিছিয়ে যেতে হবে প্রায় দুই দশক। ২০০৫ সালে ‘ফেম গুরুকুল’ নামে এক রিয়েলিটি শোয়ে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। সেখানেই তাঁর সঙ্গে আলাপ হয়েছিল শমিত ত্যাগীর। বয়সে বেশ কিছুটা বড় হলেও শমিতের সঙ্গে দারুণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে অরিজিতের। শোয়ের মঞ্চে যখন প্রতিযোগীরা নিজেদের সেরাটা দেওয়ার জন্য মরিয়া, তখনও তাঁদের বন্ধুত্ব টিকে ছিল। শমিত তাঁকে সবসময় আগলে রাখতেন, এক কথায় দাদার মতো পাশে থাকতেন। তবে প্রতিযোগিতার নিয়মই ছিল কঠিন। দর্শকদের ভোটের ভিত্তিতে শো থেকে বাদ যেতেন প্রতিযোগীরা। সেই সময়ে বিচারকেরা একাধিকবার বলেছিলেন, অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের কারণে শমিত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কিন্তু এই আত্মবিশ্বাসই কি কাল হয়েছিল তাঁর জন্য? নাকি অন্য কোনও কারণ লুকিয়ে ছিল?
শোয়ের নিয়ম অনুযায়ী, যাঁরা দর্শকদের সবচেয়ে কম ভোট পেতেন, তাঁদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতেন বাকি প্রতিযোগীরা। সেই সময়ই এমন এক পরিস্থিতির সামনে পড়েন শমিত, যেখানে তাঁকে বাঁচানোর জন্য সহ-প্রতিযোগীদের ভোট প্রয়োজন ছিল। তবে চমকের বিষয়, এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অরিজিৎ তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু শমিতের বদলে ভোট দেন অন্য এক প্রতিযোগী মণিকাকে!এই সিদ্ধান্তেই বাঁধে গোল। অনেকেই মনে করেন, নিজের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বীকে সরিয়ে দিতে চেয়েছিলেন অরিজিৎ। শোয়ের মেন্টর ইলা অরুণ পর্যন্ত প্রকাশ্যে এই ঘটনাকে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ বলেছিলেন। দর্শকদের একাংশও মনে করেন, কৌশল করেই বন্ধু শমিতকে সরিয়েছিলেন অরিজিৎ, যাতে তাঁর পথ সহজ হয়ে যায়।
আরও পড়ুনঃ হাওড়ার বেলগাছিয়ায় রাতারাতি গৃহহীন ১৫ হাজার মানুষ! প্রশাসনের গাফিলতিতেই সর্বনাশ?
তবে এত বিতর্কের পরেও অরিজিৎ এবং শমিতের সম্পর্কের সমীকরণ খুব একটা বদলায়নি। বছর কেটে গিয়েছে, কিন্তু তাঁদের বন্ধুত্ব নাকি আজও আগের মতোই রয়ে গিয়েছে। বহুবার শমিতকে অরিজিতের কনসার্টে দেখা গিয়েছে, তাঁদের একসঙ্গে ছবি ঘুরেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। তাই কি সত্যিই বিশ্বাসঘাতকতা হয়েছিল, নাকি পরিস্থিতির চাপে এমনটা করতে বাধ্য হয়েছিলেন অরিজিৎ? সাফল্যের সিঁড়ি বেয়ে আজ তিনি বলিউডের এক নম্বর গায়ক। কিন্তু সেই এক সিদ্ধান্ত বদলে দিয়েছিল আরেক প্রতিযোগীর ভবিষ্যৎ। এখনও পর্যন্ত এই বিতর্কের সুর একেবারে শেষ হয়নি, দর্শকদের একাংশ আজও এই প্রসঙ্গ তুলে আনেন। তবে যাই হোক, গানের জগতে অরিজিৎ আজ এক অন্যতম নাম, এবং শমিত হয়তো সেই সময়ের ঘটনায় ছাপিয়ে যেতে পারেননি প্রতিযোগিতার গণ্ডি।





