চাকরি পাওয়া যে কতটা কঠিন, তা সকলেই জানেন। প্রতিদিনের পড়াশোনা, রাত জাগা, কোচিং ক্লাস—এসব পেরিয়েই একজন চাকরিপ্রার্থী স্বপ্নের চাকরি পান। কিন্তু ভাবুন তো, যদি হঠাৎ একদিন সেই চাকরিটাই হাতছাড়া হয়ে যায়? শুধু চাকরি হারানোই নয়, গত কয়েক বছরের বেতনও ফেরত দিতে হয়! ঠিক এমনটাই ঘটেছে হাজার হাজার কর্মীর সঙ্গে।
কোনো চাকরি পাওয়ার পর জীবনে অনেক পরিবর্তন আসে। সংসারের দায়িত্ব, ভবিষ্যতের পরিকল্পনা, ব্যাংক ঋণ, সঞ্চয়—সব কিছু নির্ভর করে সেই চাকরির ওপর। অথচ সাম্প্রতিক এক আদালতের রায়ের ফলে অনেকেই এক ধাক্কায় সব কিছু হারানোর মুখে। শুধু চাকরি নয়, তাঁদের গত কয়েক বছরের উপার্জিত বেতনও সুদ-সহ ফেরত দিতে হবে। এটা যেন এক দুঃস্বপ্নের মতো!
সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায়ে বলা হয়েছে, বেআইনিভাবে চাকরি পাওয়া ব্যক্তিদের সমস্ত বেতন ফেরত দিতে হবে। ২০১৬ সাল থেকে যাঁরা এই অনিয়মের মাধ্যমে চাকরি পেয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। শুধু বেতনই নয়, সেই অর্থের ওপর ১২ শতাংশ হারে সুদও দিতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, নবম-দশম শ্রেণির শিক্ষক হিসেবে ২০১৯ সালে চাকরি পাওয়া কেউ যদি ৪০ হাজার টাকা বেতন পেয়ে থাকেন, তাহলে ২০২৪ সালের মার্চ পর্যন্ত তাঁর মোট উপার্জন দাঁড়াবে প্রায় ২৪ লক্ষ টাকা। একাদশ-দ্বাদশের ক্ষেত্রে এটি প্রায় ২৬ লক্ষ টাকা হতে পারে। গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডি কর্মীদের ক্ষেত্রেও কয়েক লক্ষ টাকা ফেরতের নির্দেশ এসেছে।
বেআইনিভাবে নিয়োগের অভিযোগে সুপ্রিম কোর্ট তিনটি ক্যাটাগরি নির্ধারণ করেছে—যাঁরা প্যানেলে নাম না থাকা সত্ত্বেও চাকরি পেয়েছেন, যাঁরা ফাঁকা ওএমআর শিট জমা দিয়েও উত্তীর্ণ হয়েছেন এবং যাঁরা নম্বর জালিয়াতি করেছেন। এসসিসি-এর তথ্য অনুযায়ী, আপাতত এই তালিকায় ৫৪৮৫ জন রয়েছেন। তবে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আরও তালিকা প্রকাশিত হলে সংখ্যাটা বাড়তে পারে।
আরও পড়ুনঃ US Tariff : মোদীর সঙ্গে ‘বন্ধুত্ব’ রাখল না আমেরিকা? ট্রাম্পের ধাক্কায় ভারতীয় বাজারে বিপদ!
এই রায়ের পর চাকরি হারানো ব্যক্তিরা হতবাক। অনেকেই বলছেন, তাঁরা কোনো দুর্নীতি করেননি, তবুও তাঁদের নাম তালিকায় এসে গেছে। কেউ কেউ নিজেদের নির্দোষ প্রমাণের জন্য আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও ভাবছেন। তবে সুপ্রিম কোর্টের রায় চূড়ান্ত হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত বদলানোর সম্ভাবনা কম। রাজ্যের চাকরির ইতিহাসে এমন নজিরবিহীন ঘটনা বিরল, যেখানে শুধু চাকরি নয়, গত কয়েক বছরের উপার্জিত অর্থও ফেরত দিতে হচ্ছে।





