বাড়িতে সকালের চা খেতে খেতে খবরের কাগজে চোখ বুলিয়ে মানুষ আজকাল আর চমকায় না। কারণ, রোজই কোনও না কোনও অস্বস্তির খবর থাকে। তবুও বৃহস্পতিবার সকালটা যেন একটু আলাদা ছিল। সুপ্রিম কোর্টের রায় ঘিরে একদিকে স্বস্তি, আবার অন্যদিকে ভয়—‘আবার নতুন করে সব শুরু করতে হবে?’ এমন প্রশ্নে যেন বুকের ভিতর কাঁপন ধরেছে হাজার হাজার চাকরি হারানো শিক্ষক-শিক্ষিকাদের।
প্রতিটি পরিবারের অন্দরমহলে আজ একটা অদৃশ্য টানাপোড়েন চলছে। বাবা-মা ছেলের জন্য চিন্তায়, স্ত্রী ভাবছেন, সংসার চলবে কীভাবে? চাকরি পাওয়া মানে শুধু একটা পে-স্লিপ নয়, সেটা গর্ব, সেটা আত্মসম্মান। বহুজনের স্বপ্ন আজ চুরমার। কারণ, দীর্ঘ বছর ধরে প্রস্তুতি নিয়ে যে চাকরি মিলেছিল, আজ তা আর নেই। তাও যদি ব্যক্তিগত কোনও ব্যর্থতার জন্য হতো! এখানে তো অভিযোগ ‘দুর্নীতি’র। আর সেই অভিযোগের জেরে চাকরি হারাতে হয়েছে প্রায় ২৫ হাজার শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীকে।
সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, যোগ্যতা যাচাই করা সম্ভব নয় বলে এই পদক্ষেপ জরুরি। যাঁরা ইতিমধ্যেই বেতন পেয়েছেন, তাঁদের সেই অর্থ ফেরত দিতে হবে। রায় ঘোষণার পরদিনই স্কুল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান সিদ্ধার্থ মজুমদার সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, “আইনি পরামর্শ ছাড়া কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। আমরা প্রাথমিকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছি ঠিকই, তবে এখনই কোনও চূড়ান্ত কিছু বলা যাচ্ছে না।” তিনি আরও জানান, সরকারের তরফ থেকে একটি চিঠি এসেছে এবং কমিশন জরুরি বৈঠক করেছে।
রায়ের ব্যাখ্যা পুরোপুরি স্পষ্ট নয় বলেই কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কারা পুনর্নিয়োগের প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন, কারা ছাড় পাবেন—এসব বিষয় এখনও ধোঁয়াশায়। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে কমিশন। তবে এখানেই বড় ধাক্কা—SSC জানিয়েছে, তিন মাসের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব নয়। সুপ্রিম কোর্টের রায়েও এমন কোনও সময়সীমা উল্লেখ নেই। বরং পরীক্ষার্থীর সংখ্যা এবং নিয়োগ পর্বের জটিলতা বুঝেই সময় লাগবে বলে মত চেয়ারম্যানের।
আরও পড়ুনঃ Modi Yunus Meet : বাংলাদেশে হিন্দু নিধন, চিনা দাদাগিরির মাঝেও হাসিমুখে মোদি-ইউনুস বৈঠক! বন্ধুত্ব না বাধ্যবাধকতা? উঠছে প্রশ্ন
অর্থাৎ, যাঁরা ভেবেছিলেন দ্রুত নতুন করে নিয়োগ শুরু হবে, তাঁরা আপাতত ধৈর্য ধরুন। কারণ, এখনও কোনও পরিষ্কার দিকনির্দেশ নেই। সপ্তাহান্তে কমিশনের বৈঠকে হয়তো কিছু সিদ্ধান্ত আসবে, কিন্তু এখনই নিশ্চিত কিছু বলা কঠিন। চাকরি হারানো হাজারো মুখের চোখে এখন একটাই প্রশ্ন—“আর কতদিন?” এই প্রশ্নের উত্তর ভবিষ্যতের হাতে।





