‘শহরের রাস্তায় এগুলো বন্ধ হওয়ার অবিলম্বে প্রয়োজন!’ স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের তীব্র প্রতিক্রিয়া! ‘স্ট্রিট ফটোগ্রাফি’-র নামে মহিলাদের হেন’স্থার প্রতিবাদে সরব অভিনেত্রী!

কলকাতার রাস্তায় এখন কেবল মানুষের ভিড়ই নয়, বরং এক নতুন ফটোগ্রাফি ট্রেন্ড দেখা যাচ্ছে—স্ট্রেঞ্জার পোর্ট্রেট বা অচেনা মানুষের ছবি তোলা। স্ট্রিট ফটোগ্রাফির এই প্রবণতা সম্প্রতি শহরের বিভিন্ন অংশে বেশ আলোচনার সৃষ্টি করেছে। যদিও বিশ্বের অনেক দেশে এটি একটি জনপ্রিয় শিল্পমাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়, কলকাতায় এর কিছু বিশেষ ধরনের ব্যবহার সমস্যা তৈরি করছে। একদিকে, ফটোগ্রাফি মানুষের আবেগ এবং মুহূর্তকে তুলে ধরে, অন্যদিকে যখন এটি সম্মতি ছাড়াই করা হয়, তখন তা সামাজিক ও আইনগত সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

সম্প্রতি, অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় এই ধরনের ‘স্ট্রেঞ্জার পোর্ট্রেট’ ফটোগ্রাফির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, এই ফটোগ্রাফি নারীদের সম্মানহানির এক নতুন পথ সৃষ্টি করছে। স্বস্তিকা বলেন, “শিল্পের নামে মহিলাদের সঙ্গে অশোভন আচরণ একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। বাংলার রাস্তায় এই ধরনের কাজগুলো বন্ধ হওয়া উচিত।” তার মতে, মহিলাদের সম্মানহানি করে ছবি তোলা কোনোভাবেই শিল্প হিসেবে বিবেচিত হতে পারে না এবং এটি অবশ্যই শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

স্বস্তিকার বক্তব্যে অনেকেই সমর্থন জানিয়েছেন, আবার কিছু মানুষ তার বিরোধিতা করেছেন। কিছু সমালোচক মনে করেন, যদি ফটোগ্রাফি সম্মতি নিয়ে করা হয়, তাহলে তা শিল্প হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তাদের মতে, যে কোনও পরিস্থিতিতে যদি সম্মতি না নেওয়া হয়, তবে তা শুধুমাত্র হেনস্থার ঘটনা হয়ে দাঁড়ায়। ইউরোপের মতো দেশে এই ধরনের ফটোগ্রাফি প্রশংসিত হলেও, আমাদের দেশে এটি অনেক সময় অসভ্যতার সীমায় চলে যায়। ব্যক্তিগত পরিসরের প্রতি সম্মান না থাকলে, ফটোগ্রাফি কখনোই শিল্প হতে পারে না, বরং এটি এক ধরনের আক্রমণ হয়ে ওঠে।

আরও পড়ুন: শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত সাধনা করেছেন সঙ্গীতের! সুরসম্রাজ্ঞী আশা ভোঁসলের জীবনের অন্তিম অধ্যায় কেমন কেটেছে? নাতির স্মৃতিচারণা উঠে এল, নানান অজানা গল্প! 

এই মন্তব্যের পর কলকাতার ফটোগ্রাফি সম্প্রদায়ের মধ্যে তুমুল বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। কেউ স্বস্তিকার পক্ষে, আবার কেউ বিপক্ষে নিজেদের মতামত প্রকাশ করেছেন। একপক্ষের মতে, শিল্পের নামে মহিলাদের হেনস্থার কোনো সুযোগ নেই, তবে অন্যপক্ষের বক্তব্য, ফটোগ্রাফির ক্ষেত্রে সমালোচনা করা উচিত নয়, কারণ এটি একটি শিল্পমাধ্যম। কিন্তু, সব পক্ষই একমত যে, ফটোগ্রাফি শিল্প হতে হলে সেটি অবশ্যই সম্মতির ভিত্তিতে হতে হবে এবং নৈতিকতা বজায় রাখতে হবে।

এখন প্রশ্ন উঠছে, এই ধরনের ফটোগ্রাফির বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না। তবে অনেকেই মনে করছেন, সরকারের পক্ষ থেকে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া উচিত, যাতে মানুষ নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়। স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ও সরকারের কাছে আবেদন করেছেন, যাতে এই ধরনের অসামাজিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করা যায় এবং মানুষের সম্মান ও স্বাধীনতা সুরক্ষিত থাকে। স্ট্রিট ফটোগ্রাফি যেমন শিল্প, তেমনি এর সঠিক ব্যবহার ও নৈতিকতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

RELATED Articles