Murshidabad: “আমরা আর বাঁচব না!” সামশেরগঞ্জে খুন, লুঠ, আগুন – ভয়ে কাঁপছে গোটা মুর্শিদাবাদ, রাষ্ট্রপতি শাসনের দাবি গ্রামবাসীদের!

রাত হলেই বুক কাঁপছে আতঙ্কে। বাচ্চা কোলে নিয়ে মায়েরা আশ্রয় নিচ্ছেন প্রতিবেশীর ঘরের ছাদে, আবার কেউ লুকিয়ে পড়ছেন ঝোপঝাড়ে। রান্নাঘরের হাঁড়ি খালি, দোকানপাট বন্ধ, স্কুলে যেতে ভয় পাচ্ছে শিশুরাও। শান্ত মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ যেন পরিণত হয়েছে বারুদের স্তূপে। এক সময় যেখানে সন্ধ্যাবেলায় উঠোনে গল্প করতেন মহিলারা, এখন সেখানে নিশুতি রাতেও শোনা যাচ্ছে কাঁদতে কাঁদতে বাঁচার আকুতি।

“একশোবার ফোন করেছি পুলিশকে, কেউ ফোন তোলে না”—এই অভিযোগ এখন এলাকার প্রতিটি গলির প্রতিটি গৃহস্থের মুখে মুখে। মা কাঁদছেন, “আমার সন্তানকে বাঁচাবো কীভাবে?” ছেলে বলছে, “দাদু আর বাবাকে হারালাম, কিন্তু পুলিশ এল না!” শুধু পুলিশ নয়, গোটা প্রশাসনের উপরই আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন বাসিন্দারা। তারা বলছেন, “আমরা তো রাজ্যের নাগরিক, আমাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব কে নেবে?”

অবশেষে রানিপুরের জাফরাবাদ থেকে আসল ছবিটা সামনে আসছে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, দুষ্কৃতীরা প্রথমে একটি বাড়িতে হামলা চালায়। এরপরই শুরু হয় মারধর, তাণ্ডব। ভয় পেয়ে ছুটে আসেন এক বৃদ্ধ পিতা। ছেলেকে বাঁচাতে গিয়েই তিনিও আক্রান্ত হন। পরে দু’জনের দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। সেই সময়ও পুলিশ ছিল না ঘটনাস্থলে, এমনটাই দাবি স্থানীয়দের। চারপাশে তখন শুধু কান্নার শব্দ আর জ্বলন্ত ঘরের শিখা।

পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও, উত্তেজিত জনতা তাদের ঘিরে ধরে। মৃতদেহ তুলতে বাধা দেওয়া হয়। দোষীদের শাস্তির দাবি তুলতে শুরু করেন সাধারণ মানুষ। এরপরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় নামানো হয় বিএসএফ। গ্রামে চলছে রুট মার্চ, আতঙ্কে মানুষজন হাতজোড় করে বলছেন—“আমাদের বাঁচান!” কেউ আবার রাষ্ট্রপতি শাসনের দাবি তুলেছেন। কেউ কেউ আশ্রয় নিয়েছেন ঝাড়খণ্ডের সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিতে।

আরও পড়ুনঃ নগদ না থাকলে বিপদ! ফোনপে, গুগলপে-তে পেমেন্ট বন্ধ, UPI ডাউন হতেই বিপাকে দেশবাসী!

পুরো ঘটনার জেরে রাজ্য জুড়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দাবি নিয়ে। অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোশ্যাল মিডিয়ায় শান্তির বার্তা দিয়ে জনগণকে গুজবে কান না দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। পুলিশ-প্রশাসনের তরফে বারবার বলা হচ্ছে, “অযথা আতঙ্ক ছড়াবেন না, সতর্ক থাকুন।” তবে বাস্তবে আতঙ্কে নিঃস্ব প্রাণহীন গ্রামগুলি কিছুতেই শান্তি খুঁজে পাচ্ছে না।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles