বাজার করতে বেরিয়ে গিয়েছেন, হঠাৎ দেখলেন ব্যাগে নগদ টাকা নেই। চিন্তা নেই—ফোনে তো আছে ফোনপে বা গুগল পে! দোকানে গিয়ে সোজা স্ক্যান করলেন কিউআর কোড। কিন্তু তারপরে? স্ক্রিনে শুধু ঘুরছে গোল চাকতি, আর বারবার দেখাচ্ছে “পেমেন্ট ফেইল্ড”। শনিবার দুপুরে এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন দেশের হাজার হাজার মানুষ। নগদহীন এই দুনিয়ায়, এক মুহূর্তের জন্য যেন স্তব্ধ হয়ে গেল ডিজিটাল ইন্ডিয়া।
আজকের দিনে ক্যাশ ব্যবহার করা অনেকের কাছেই অতীত। মুদিখানা থেকে শুরু করে রিকশাওয়ালা—সবার কাছেই এখন ইউপিআইই প্রধান ভরসা। কিন্তু যখন সেই ইউপিআইই আচমকা কাজ করা বন্ধ করে দেয়, তখন যেন চাকা ঘোরে না। ক্রেডিট কার্ড নেই, ডেবিট কার্ড আনেননি, অ্যাটিএম-এ যাওয়ার সুযোগ নেই—এই পরিস্থিতিতে মানুষ পড়লেন চরম অস্বস্তিতে।
শনিবার দুপুর ১২টা নাগাদ হঠাৎ করেই শুরু হয় এই সমস্যার সূত্রপাত। অনেকে প্রথমে ভেবেছিলেন, হয়তো নিজের ফোনে নেটওয়ার্ক সমস্যা হচ্ছে। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখা যায়, গোটা দেশ জুড়েই একই সমস্যা। ফোনপে, গুগল পে, পেটিএম—সব প্ল্যাটফর্মেই লেনদেন ব্যাহত। কেউ পেমেন্ট করতে পারছেন না, কেউ ফান্ড ট্রান্সফার করতে গিয়ে বিফলে যাচ্ছেন। কিছু ক্ষেত্রে আবার টাকাও কেটে যাচ্ছে, অথচ রিসিভার পাচ্ছেন না কিছুই।
ডাউন ডিটেক্টর ওয়েবসাইট অনুযায়ী, শনিবার দুপুরে ইউপিআই সংক্রান্ত সমস্যার রিপোর্ট আসে ২ হাজারেরও বেশি। ৭৬% গ্রাহক পেমেন্ট সংক্রান্ত সমস্যার মুখে পড়েন, আর ২৩% ফান্ড ট্রান্সফার আটকে যাওয়ার অভিযোগ করেন। সোশ্যাল মিডিয়াতেও বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন নেটিজেনরা। কেউ বলেন, “নগদ থাকলেই আজকের দিনে রক্ষা।” কেউ আবার মিম বানিয়ে কটাক্ষ করেন এই ডিজিটাল ব্যবস্থাকে।
আরও পড়ুনঃ ‘আন্দোলনের নামে নাশকতা!’—রেলগেটে আগুন, রিলে রুম গুঁড়িয়ে দিল উন্মত্ত জনতা, টহলে BSF
তবে প্রশ্ন একটাই—এই বিশাল ডিজিটাল বিভ্রাট কেন ঘটল? এখনও পর্যন্ত ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (NPCI) কোনও সরকারি বিবৃতি দেয়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটা কোনও সার্ভার সংক্রান্ত বড় ধরনের টেকনিক্যাল সমস্যা হতে পারে। এর আগে ২৬ মার্চ এবং ২ এপ্রিলেও একই রকম সমস্যা দেখা দিয়েছিল। তখন এনপিসিআই জানিয়েছিল, টেকনিক্যাল ত্রুটির কারণেই সমস্যা হয়েছিল। আরবিআই-এর তথ্য অনুযায়ী, ভারতের সর্বোচ্চ ডিজিটাল লেনদেন ইউপিআই-এর মাধ্যমেই হয়ে থাকে, তাই এই সমস্যার প্রভাবও ছিল দেশের সর্বত্র।





