সোমবারের ভোরটা শিলিগুড়িবাসীর কাছে আর পাঁচটা দিনের মতো ছিল না। পাখির ডাক, গাড়ির আওয়াজ আর বাজারে যাওয়ার তাড়াহুড়োর বদলে, হঠাৎই ছড়িয়ে পড়ল একটা অদ্ভুত গুঞ্জন। চারদিক যেন থমকে গেল। কিছু একটা ঘটে গেছে, মানুষ বুঝল, কিন্তু ঠিক কী সেটা কেউ বলতে পারছিল না। চার নম্বর ওয়ার্ডের আশপাশে বাসিন্দারা শুনতে পেল হট্টগোল, চিৎকার, আর খানিক পরেই পুলিশের সাইরেনের শব্দ।
সোশ্যাল মিডিয়ায় চোখ রাখতেই দেখা গেল, গুজবের বন্যা বইছে। কেউ বলছে দাঙ্গা, কেউ বলছে গোষ্ঠী সংঘর্ষ। আতঙ্কে স্কুল-কলেজগামী পড়ুয়ারা বাড়ি থেকে বেরোতে দ্বিধা করল। দোকানদাররা শাটার নামিয়ে দিলেন। শহরের বুকে এক অজানা ভয়ের ছায়া। ঠিক কী ঘটেছিল চার নম্বর ওয়ার্ডে? কেন হঠাৎ এতটা উত্তপ্ত হয়ে উঠল এলাকা? এই প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে সময় নিতে হবে কিছুটা।
সূত্রের খবর, কয়েকদিন আগেই ওই এলাকায় গাজন সন্ন্যাসীদের ওপর এক রহস্যজনক হামলা হয়েছিল। তখনই এলাকায় চাপা উত্তেজনা ছিল। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও, ক্ষোভ জমে ছিল দুই গোষ্ঠীর মধ্যে। সোমবার ভোর সাড়ে ৫টা নাগাদ আচমকা সেই চাপা ক্ষোভ বিস্ফোরণ ঘটায়। এক পক্ষ আর এক পক্ষকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ে বলে স্থানীয়রা জানান। ঘটনাস্থলে ভাঙচুর হয় একাধিক টোটো ও বাড়ি। তবে এই সংঘর্ষের পিছনে কী ছিল আসল কারণ, তা তখনও স্পষ্ট হয়নি।
হঠাৎ এই অশান্তির খবর পেয়ে এলাকায় পৌঁছয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। ঘটনাস্থলে যান পুলিশ কমিশনার পি সুধাকর নিজেও। দু’পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাসের সেল ব্যবহার করতে হয় পুলিশকে। সংঘর্ষ চলাকালীন আহত হন দু’জন পুলিশকর্মীও। প্রশাসনের তরফে বলা হয়, কোনও গুজব থেকেই পরিস্থিতির এমন অবনতি ঘটে। তবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যায়নি।
আরও পড়ুনঃ Bhangar : ফের ওয়াকফ ঘিরে আন্দোলন, “শুধু কি তৃণমূলই মিছিল করবে?” পুলিশের বাধায় ক্ষুব্ধ আইএসএফ, ব্যারিকেড ভেঙে ধুন্ধুমার, স্তব্ধ শহরতলি
শেষমেশ পুলিশ কমিশনার জানান, একটি মিথ্যে গুজব থেকেই সোমবার সকালে এত বড় সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রশাসন এখন সম্পূর্ণ সতর্ক। এলাকায় চলছে নিয়মিত টহল। সাধারণ পোশাকে পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে গোটা শিলিগুড়ি শহরে। বাসিন্দাদের অনুরোধ করা হয়েছে— গুজবে কান দেবেন না, শান্তি বজায় রাখুন। আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও, প্রশাসনের কড়া নজরে রয়েছে এলাকা, যাতে ফের এমন ঘটনা না ঘটে।





