ভাঙড়ের রাস্তায় এখন আর শুধু বাজার নেই, নেই চেনা হাঁসফাঁস জনজীবন। চারপাশে শুধুই আতঙ্ক, শুধু ধ্বংসের ছবি। আগুনে পোড়া পুলিশের গাড়ির কঙ্কাল, ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ভাঙা বাইক, আর রাস্তাজুড়ে গুচ্ছ গুচ্ছ আধলা ইট — যেন কোনও যুদ্ধক্ষেত্রের ছবি। সাধারণ মানুষ নিজেদের বাঁচাতে এখন বাড়ির দরজা জানলা বন্ধ করে বসে আছেন। প্রশ্ন একটাই — এই চরম তাণ্ডবের নেপথ্যে কারা?
ধর্মীয় বা সামাজিক আন্দোলন যদি জনস্বার্থে হয়, তাহলে মানুষ তাতে স্বস্তি খুঁজে পান। কিন্তু যখন সেই প্রতিবাদই ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও পুলিশের উপর হামলায় পরিণত হয়, তখন তা সমাজের কাছে ভয়ংকর বার্তা দেয়। সুতি, ধূলিয়ান হয়ে এবার ভাঙড়েও সেই একই ছবি। ওয়াকফ ইস্যুতে প্রতিবাদের নামে এখানে যেন পরিকল্পিতভাবেই বিস্ফোরণ ঘটেছে হিংসার।
ঘটনার সূত্রপাত দুপুরের পর। ভাঙড়ের সোনপুর বাজারে হঠাৎ করেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। প্রথমেই লক্ষ করা যায় এলাকার সিসিটিভিগুলি। অভিযোগ, কলকাতা পুলিশের অধীনে যাওয়ার পর গোটা ভাঙড়ে লাগানো এই ক্যামেরাগুলিই ছিল হামলাকারীদের প্রথম টার্গেট। একটা নন-মুভেবল ক্যামেরা সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলা হয়, আর ডোম ক্যামেরার মুখ ঘুরিয়ে উপরের দিকে করে দেওয়া হয় যাতে ফুটেজ না মেলে।
সিসিটিভি অচল করতেই শুরু হয় দাপট। পুলিশের প্রিজন ভ্যানে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়, একের পর এক বাইক ভেঙে ফেলা হয়। এলাকায় পড়ে থাকে পোড়া গাড়ির কঙ্কাল, ছড়িয়ে থাকে ইট-পাথর। অভিযোগ, আইএসএফের মিছিল আটকাতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। তারপরেই সবকিছু নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পাঁচজন পুলিশ কর্মী আহত হন। আটক করা হয়েছে বেশ কয়েকজনকে।
আরও পড়ুনঃ প্রেম করে বিয়ে, ৪৫ দিনের সন্তান… তারপরও শেষভাগ্যে ফাঁসির দড়ি! সদ্য বাবা হয়েই যুবকের মর্মান্তিক পরিণতি!
তাণ্ডবের পর শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। ক্যানিং পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লা বলেন, “আইএসএফ মানেই সমাজবিরোধী। সংখ্যালঘুদের নাম ব্যবহার করে যারা পুলিশের গাড়িতে আগুন লাগায়, তাদের কোনও ধর্ম নেই।” অন্যদিকে আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকির বক্তব্য, “পুলিশ নিরপেক্ষ হলে ভিডিও ফুটেজ দেখে দোষীদের গ্রেফতার করুক। তৃণমূলের লোকজন ঢুকে হিংসা ছড়িয়েছে।” তবে যেই দোষী হোক, আজ ভাঙড়ে যে আগুন জ্বলেছে, তাতে পুড়েছে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা, বিশ্বাস আর শান্তির পর্দা।






