গত কয়েকদিন ধরেই উত্তপ্ত রাজ্যের একাধিক জেলা। বিশেষ করে মুর্শিদাবাদ ও নদিয়ায় হঠাৎ করেই অশান্তি ছড়িয়ে পড়ে ওয়াকফ আইন ঘিরে। সাধারণ মানুষ যখন রোজগারের চিন্তায় ব্যস্ত, তখন এমন অশান্তি আরও আতঙ্ক তৈরি করছে। কোথাও রাস্তায় আগুন জ্বলছে, কোথাও পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথরবৃষ্টি চলছে—এই সব ছবি দেখে সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। আর এই ঘটনার রেশ ছড়াল আন্তর্জাতিক স্তরেও।
দেশের গণ্ডি পেরিয়ে এই উত্তেজনার রেশ পৌঁছে গেছে প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশেও। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের তরফে এক বিবৃতিতে ভারতের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, মুর্শিদাবাদে মুসলমানদের উপর হিংসা হয়েছে এবং ভারত সরকারকে এই বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে। বাংলাদেশের এমন বিবৃতিকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক স্তরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে নয়াদিল্লির তরফে কড়া জবাব দেওয়া হয়েছে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রন্ধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “বাংলাদেশের মন্তব্য সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। মুর্শিদাবাদের ঘটনা ব্যবহার করে বাংলাদেশ নিজ দেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিষয় থেকে মনোযোগ সরাতে চাইছে।” তাঁর আরও বক্তব্য, “বাংলাদেশের উচিত নিজেদের দেশে সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষা করা, ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক না গলানো।” এমনকি সরকারি রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, মুর্শিদাবাদের হিংসায় বাংলাদেশি দুষ্কৃতীদের যোগ রয়েছে বলেও সন্দেহ।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের উপর হামলার ঘটনা গত এক বছর ধরে ক্রমাগত সামনে এসেছে। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর কট্টর ইসলামপন্থীদের দাপটে প্রায় ২০০টির বেশি মন্দির ভাঙচুর হয়েছে বলে অভিযোগ। পূজা চলাকালীন মন্দিরে আক্রমণ এবং হিন্দু ব্যবসায়ীদের হুমকির ঘটনাও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলির নজরে এসেছে। অথচ এসব বিষয়ে বাংলাদেশের সরকার বরাবর চুপ থেকেছে বলে অভিযোগ।
আরও পড়ুনঃ Ssc : SSC-তে ইতিহাস গড়ার পথে নিয়োগপ্রক্রিয়া? উত্তরপত্রের কার্বন কপি পাবে পরীক্ষার্থী, প্রস্তাব পাঠালো কমিশন!
বাংলাদেশের মন্তব্য ঘিরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতেও নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস একদিকে কেন্দ্রকে দায়ী করছে, অপরদিকে বিজেপি বলছে, সীমান্ত নিরাপত্তায় ব্যর্থ রাজ্য সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের রিপোর্টে বলা হয়েছে, ওয়াকফ আইনকে কেন্দ্র করে ছড়ানো হিংসায় সীমান্ত পেরিয়ে আসা বাংলাদেশি দুষ্কৃতীদের ভূমিকা রয়েছে। আর এই বিষয়টিকেই ঢাল করে বাংলাদেশ ভারতকে ‘উপদেশ’ দিতে চাইছে—এমনটাই নয়াদিল্লির স্পষ্ট বার্তা। তাই দিল্লির মতে, আত্মসমালোচনা না করে অন্য দেশের দিকে আঙুল তোলা উচিত নয় বাংলাদেশের।






