সময়ের সঙ্গে পালটে যাচ্ছে জীবনধারা, কিন্তু কিছু বিষয় চিরকাল প্রাসঙ্গিক থেকে যায়। প্রযুক্তি, আধুনিকতা আর গ্লোবালাইজেশনের দৌড়ে ছুটতে ছুটতে মানুষ যখন ক্লান্ত, তখন সে আশ্রয় খোঁজে নিজের শিকড়ে। এদেশের সংস্কৃতি, দর্শন আর শাস্ত্রগুলিই সেই নির্ভরতার আশ্রয়। হাজার হাজার বছরের পুরনো ভগবত গীতা হোক বা নাট্যশাস্ত্র—আজও মানুষের মানসিক অবসাদ দূর করতে, আত্মদর্শনের রাস্তা দেখাতে এই প্রাচীন রচনাগুলি ভীষণ প্রাসঙ্গিক।
আজকের প্রজন্ম হোক বা ইউরোপ-আমেরিকার গবেষক—অনেকেই আবার ফিরে তাকাচ্ছেন ভারতের এই জ্ঞানভাণ্ডারের দিকে। স্কুলের বইয়ের বাইরে গিয়ে, সোশ্যাল মিডিয়ার দুনিয়াতেও ‘গীতা’র শ্লোক কিংবা ‘নাট্যশাস্ত্র’-এর সূত্র আলোচিত হচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে—কী এমন আছে এই রচনাগুলিতে, যা এত বছর পরেও মানুষকে টানে? আসলে, আত্মোপলব্ধি, মানবিকতা, শিল্প, সংস্কৃতি আর নৈতিকতার যে মেলবন্ধন এই রচনাগুলিতে রয়েছে, তা বিশ্বের অন্য কোনও স্থানে এত সুসংহতভাবে মেলে না।
সম্প্রতি এই গৌরব আরও একধাপ এগোল। ভগবত গীতা এবং নাট্যশাস্ত্র—এই দুই মহামূল্য রচনা জায়গা করে নিল ইউনেস্কো-র মেমোরি অফ দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্টার (UNESCO Memory of the World Register)-এ। এই তালিকায় বিশ্বের নানা দেশের ১২টি গুরুত্বপূর্ণ নথিকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ভারতীয় এই দুই রচনার অন্তর্ভুক্তি নিঃসন্দেহে দেশের জন্য বড় গর্বের বিষয়। এ যেন এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত, যেখানে ভারতীয় দর্শন ও শিল্প বিশ্বমঞ্চে বিশেষ সম্মান পেল।
এই তালিকায় জায়গা পাওয়ার মানে হল, ইউনেস্কো স্বীকৃতি দিচ্ছে যে এই গ্রন্থদ্বয় কেবল এক জাতির নয়, গোটা মানবজাতির ঐতিহ্য। ‘মেমোরি অফ দ্য ওয়ার্ল্ড’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত নথিগুলি ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষিত থাকে। বিশ্বব্যাপী গবেষক, শিক্ষার্থী, শিল্পী ও ইতিহাস অনুরাগীরা এই জ্ঞানভাণ্ডার থেকে উপকৃত হবেন। এটি নিছক সম্মান নয়—বরং বিশ্বব্যাপী ভারতের জ্ঞানতাত্ত্বিক নেতৃত্বকে প্রতিষ্ঠা করার এক সুবর্ণ সুযোগ।
আরও পড়ুনঃ Murshidabad – Bangladesh : মুর্শিদাবাদের আগুনে তেল ঢালছে বাংলাদেশ? ভারতের কড়া হুঁশিয়ারি—’নিজেদের দেশে মন্দির ভাঙা থামান আগে’
ভগবত গীতা ও নাট্যশাস্ত্র প্রথমবার একসঙ্গে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেল এই তালিকায়। আগে ভারতীয় বিভিন্ন রচনা এভাবে সম্মান পেলেও, একইসঙ্গে দু’টি আলাদা শাস্ত্র—একটি ধর্মীয় ও দার্শনিক, অপরটি শিল্প ও নাট্যবিদ্যার প্রতীক—এরকম যুগল সংযোজন এই প্রথম। এর ফলে ভারতীয় সংস্কৃতি এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছল। পৃথিবীর মঞ্চে ভারতের সাহিত্য, শিল্প ও আধ্যাত্মিক ভাবনার জোরদার উপস্থিতি প্রমাণিত হল আবারও।





