সোশাল মিডিয়ার যুগে কার কী পোস্ট ভাইরাল হবে, তা আগে থেকে বলা অসম্ভব। একের পর এক মন্তব্য, ছবি কিংবা ভিডিও কখন যে সাধারণ মানুষের মনে আলোড়ন তোলে, তা অনেক সময় বুঝে ওঠার আগেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক পরিসরে। এর আগেও বহুবার দেখা গিয়েছে, ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে করা পোস্ট হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু। কখনও তা দলকে লজ্জায় ফেলেছে, কখনও বা প্রশ্ন তুলেছে ব্যক্তির নীতিবোধ নিয়ে।
এবার এমনই এক বিতর্কে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। কারণ, যাঁর সোশাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে বিতর্ক, তিনি এক জন প্রাক্তন কাউন্সিলর, বর্তমানে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের ওয়ার্ড নেত্রী তথা বর্তমান কাউন্সিলরের স্বামী! তাঁর নাম শাহজাহান শেখ। নাম শুনে চমকে উঠছেন? ঠিকই ধরেছেন। সন্দেশখালির কুখ্যাত শেখ শাহজাহান প্রসঙ্গ এখনও মানুষের মন থেকে মুছে যায়নি। আর ঠিক সেই সময়েই ফের এক ‘শাহজাহান’ ঘিরে নতুন করে অস্বস্তিতে তৃণমূল। যদিও এই শাহজাহান শেখের সঙ্গে সন্দেশখালির ঘটনার কোনও সম্পর্ক নেই, তবে নামের মিল রাজ্যের শাসকদলকে নতুন করে কোণঠাসা করছে।
জানা যাচ্ছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি নদিয়া জেলার শান্তিপুর পৌরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। পূর্বে তিনিই ছিলেন ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর, বর্তমানে তাঁর স্ত্রী রয়েছেন সেই পদে। অভিযোগ, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর থেকেই তিনি একাধিক ফেসবুক পোস্টে পাকিস্তানের প্রতি সমর্থন জানান এবং দেশের বিরুদ্ধে বক্তব্য পেশ করেন। বিষয়টি প্রথমে নজরে আসে নেটিজেনদের। তারপর ধীরে ধীরে বিষয়টি রাজনীতিকদের কাছেও পৌঁছায়। বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার প্রকাশ্যে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যে ব্যক্তি দেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, তার এ দেশে থাকারই অধিকার নেই।”
শাহজাহান শেখের পোস্ট ঘিরে বিতর্ক ছড়াতেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। সোশাল মিডিয়ায় ওই ব্যক্তির পোস্টগুলি ভাইরাল হতে শুরু করে। তীব্র প্রতিবাদের জেরে বুধবার গভীর রাতে পুলিশ তাঁকে তাঁর শান্তিপুরের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে। যদিও এই ঘটনায় সম্পূর্ণরূপে নিজেকে আলাদা রাখার চেষ্টা করেছে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। দলের টাউন সভাপতি নরেশলাল সরকার বলেন, “রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং দেশের প্রধানমন্ত্রী একসঙ্গে দেশের সুরক্ষা নিয়ে বার্তা দিচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে দলের কোনও কর্মী কেন এমন পোস্ট করলেন, তা দল জানে না। পুলিশ তদন্ত করছে।”
আরও পড়ুনঃ Operation sindoor : বিরাট সাফল্য ভারতীয় বায়ুসেনার! লাহোরে ধ্বংস পাকিস্তানের HQ-9 প্রতিরক্ষা ঘাঁটি
ঘটনার জেরে স্বভাবতই অস্বস্তি বাড়ল তৃণমূল কংগ্রেসের। একদিকে সন্দেশখালির ঘটনার রেশ এখনো মেটেনি, অন্যদিকে ফের এক ‘শাহজাহান’ নামকে ঘিরে বিতর্ক রাজনৈতিক শিবিরে। যদিও নামের মিল ছাড়া এই দুই ঘটনার মধ্যে কোনও সম্পর্ক নেই, তবু সাধারণ মানুষের মনে বিভ্রান্তি ও বিরক্তি তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। রাজনৈতিক মহলের মতে, দলের ভাবমূর্তি রক্ষার স্বার্থে তৃণমূল এখন চাইছে দ্রুত এই বিতর্ক থেকে সরে আসতে এবং বিষয়টিকে আইনি পথে মিটিয়ে ফেলতে। তবে যে ক্ষত ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে, তা কতটা সহজে মুছবে—সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক মহলে।





