দেশজুড়ে এখন টানটান উত্তেজনা। সীমান্তে যুদ্ধ পরিস্থিতি, চারদিকে আশঙ্কা আর উৎকণ্ঠার ঘনঘটা। খবরের কাগজ খুললেই চোখে পড়ছে সীমান্ত উত্তেজনার ছবি, টিভির পর্দা জুড়ে শুধুই যুদ্ধের সম্ভাবনা। এমন পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক জীবনে স্বস্তি খোঁজার আশায় অনেকেই তাকিয়ে রয়েছেন প্রাকৃতিক পরিবেশের দিকে। কিন্তু তাতেও মিলছে না শান্তি। কারণ এই উত্তেজনার আবহে তেতে উঠেছে রাজ্যের আবহাওয়াও।
অন্য সময় হলে এই সময়ে বৃষ্টির আশায় চোখ রাখতেন অনেকেই। কিন্তু এবার বৃষ্টি নয়, বরং উলটো চিত্র। রাজ্যের একাধিক জেলায় পারদ চড়ছে লাগামছাড়া গতিতে। গত কয়েকদিনে সামান্য ঝড়-বৃষ্টি কিছুটা স্বস্তি দিলেও, তা যে ছিল একেবারে সাময়িক—তা এখন আর বুঝতে বাকি নেই। শহর থেকে গ্রাম, সর্বত্রই ফিরে এসেছে সেই পুরনো ভ্যাপসা গরম। জলজ্যান্ত তপ্ত বাতাস যেন জানিয়ে দিচ্ছে, তাপপ্রবাহের মরশুম ফিরে এসেছে নতুন তেজে।
আবহাওয়া দফতরের খবর বলছে, বিশেষত পশ্চিম বর্ধমান, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুরে তাপপ্রবাহের সম্ভাবনা প্রবল। আগামী রবিবার ও সোমবার এই জেলাগুলিতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। দক্ষিণবঙ্গের আরও কিছু জেলাতেও তাপমাত্রা বাড়বে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। কলকাতার তাপমাত্রাও ৪০ ডিগ্রির কাছাকাছি পৌঁছতে পারে। রাস্তায় বেরোতেই ঘামে ভিজছে পোশাক, অফিসযাত্রী থেকে শুরু করে স্কুল পড়ুয়ারা—সবাই নাজেহাল অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।
উত্তরবঙ্গের দিকেও নজর রাখছে আবহাওয়া দফতর। মালদার মতো জেলাগুলিতে ফের তাপপ্রবাহের আশঙ্কা রয়েছে। যদিও দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ারে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে, তবে গোটা উত্তরবঙ্গে গরমের প্রভাব একেবারে শেষ হয়ে যাচ্ছে না। তাপমাত্রা ৩ থেকে ৫ ডিগ্রি পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ অপারেশন সিঁদুরে আক্রমণাত্মক মোড়, জম্মুতে হওয়া হামলার উত্তরে পাকিস্তানের ভিত কাঁপাচ্ছে ভারত
আপাতত এই পরিস্থিতির বদল ঘটবে না বলেই জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। আগামী তিন-চার দিন রাজ্যের তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে। দফায় দফায় জেলাগুলিতে জারি থাকবে তাপপ্রবাহের সতর্কতা। ভ্যাপসা গরমে ফের ছারখার দশা হতে চলেছে দক্ষিণ ও উত্তর—দুই বঙ্গেই। জনসাধারণকে বিশেষভাবে সাবধান থাকার পরামর্শ দিচ্ছে আবহাওয়া দফতর। বিশেষ করে দুপুরে বাইরে বের হওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরাও।






