যুদ্ধের আবহে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিতে আবার ফিরে এসেছে পুরনো আতঙ্ক। দিনের আলোয় যেটুকু স্বস্তি, রাত নামলেই দম বন্ধ করা ভয়। ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠানো থেকে শুরু করে মাঠে কাজ করা— সবকিছুর মাঝেই যেন লুকিয়ে রয়েছে এক অজানা শঙ্কা। ভারতের মানুষ আবারও এক অনিশ্চয়তার মুখোমুখি, যেখানে প্রতিবেশী দেশের অস্থিতিশীল পদক্ষেপে প্রতিনিয়ত বেড়ে চলেছে নিরাপত্তার ঝুঁকি।
দেশপ্রেমের আবেগ একদিকে, অন্যদিকে চোখ রাঙানো বাস্তব। কাশ্মীর থেকে রাজস্থান— ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলি যেন ঘুম হারিয়েছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, এত নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেও কীভাবে বারবার অনুপ্রবেশ বা বিস্ফোরক মিলছে? ভারতের নিরাপত্তা বলয় আরও কতটা শক্তিশালী করা হবে, সেই দিকেই তাকিয়ে দেশবাসী।
ঠিক এমন সময়েই রাজস্থানের জয়সলমীর থেকে উঠে আসে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। একটি উচ্চ-নিরাপত্তা এলাকায় একটি সক্রিয় বোমা পাওয়া যায়। স্থানীয় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর তৎপরতায় দ্রুত মোতায়েন করা হয় বম্ব ডিসপোজাল স্কোয়াড। সৌভাগ্যবশত এই ঘটনায় কোনও হতাহতের খবর নেই। তবে এই ঘটনায় জোরদার হয়েছে প্রশ্ন— এই বিস্ফোরক এল না কোথা থেকে? যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝে এটা কি নিছক দুর্ঘটনা না কি বড়সড় ষড়যন্ত্রের অঙ্গ?
একই সময়, জম্মু ও কাশ্মীরের সাম্বা সেক্টরে নজিরবিহীন সতর্কতায় বিএসএফ সীমান্তে দেখতে পায় সন্দেহজনক গতিবিধি। রাতের অন্ধকারে ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালায় একদল সন্ত্রাসবাদী। সঙ্গে সঙ্গেই অভিযান শুরু করে সীমান্তরক্ষী বাহিনী। পাল্টা গুলিবর্ষণের মধ্যে ৭ থেকে ৮ জন ভারি অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত সন্ত্রাসীকে গুলি করে হত্যা করে বিএসএফ। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রচুর অস্ত্র ও গোলাবারুদ। এর পরেই সাম্বার আন্তর্জাতিক সীমান্ত বরাবর বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা।
আরও পড়ুনঃ Weather update: ঝড়-বৃষ্টির পর ফের ভ্যাপসা গরমে ছারখার বাংলা, তাপপ্রবাহে অস্থির একাধিক জেলা!
ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝে এই দুই ঘটনা আরও একবার প্রমাণ করে দিল, ভারতের বিরুদ্ধে চক্রান্ত এখনও অব্যাহত। জয়সলমীরের বোমা এবং সাম্বায় অনুপ্রবেশের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে সেনাবাহিনী, বিএসএফ এবং পুলিশ— সবাই সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। এই কঠিন সময়ে দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর দৃঢ়তা এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়াই দেশের মানুষের কাছে একমাত্র ভরসা। যুদ্ধ যতই চলুক, ভারতের মাটি যে অটুট থাকবে, তা যেন প্রতিটি সাহসী জওয়ানের দৃষ্টান্তেই স্পষ্ট।





