কাশ্মীর সীমান্তের লাগোয়া গ্রামগুলোয় রাত নামলেই একটা অদৃশ্য অশান্তি মাথাচাড়া দেয়। কখন যে বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে উঠবে চারপাশ, কেউ জানে না। স্কুলে পড়তে যাওয়া বাচ্চাটাকে নিয়ে চিন্তা, চাষের জমিতে কাজ করতে যাওয়া স্বামীটি ফিরবেন কি না—এই দুশ্চিন্তা ঘিরে থাকে প্রতিটি পরিবারের মনে। বছরের পর বছর ধরে চলতে থাকা এই অস্থিরতা যেন আবার নতুন করে জেগে উঠছে। কারণ সীমান্তে উত্তেজনার আঁচ এবার শুধু জম্মু-কাশ্মীরেই নয়, পৌঁছে গেছে দেশের সর্বোচ্চ মহলেও।
আন্তর্জাতিক স্তরে আবার সরব কাশ্মীর ইস্যু ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক যতবার উত্তপ্ত হয়েছে, ততবারই আন্তর্জাতিক স্তরে কাশ্মীর প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। তবে বিশেষ বিষয় হল, এবার ভারতের তরফে সরাসরি কড়া ভাষায় বার্তা পাঠানো হয়েছে মার্কিন প্রশাসনের কাছে। যেখানে ভারত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এ বিষয়ে তৃতীয় কোনও পক্ষের হস্তক্ষেপ তারা বরদাস্ত করবে না। মোদী সরকারের এই কূটনৈতিক রূপরেখা শুধু নতুন নয়, একেবারে অনমনীয়।
শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কথা বলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সের সঙ্গে। নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সেই আলোচনায় মোদী স্পষ্ট জানান, “কাশ্মীর নিয়ে ভারতের অবস্থান আজও অপরিবর্তিত। পাক অধিকৃত কাশ্মীর (POK) ভারতীয় ভূখণ্ডের অংশ—এটা ফেরত আসতেই হবে।” মোদীর দাবি, আলোচনার কোনও সম্ভাবনা তখনই খোলা থাকতে পারে যদি পাকিস্তান জঙ্গি কার্যকলাপে সম্পূর্ণ বিরতি টানে এবং তাদের হাতে থাকা দোষীদের ভারতের হাতে তুলে দেয়। নইলে ভারত আর কোনও আলোচনা চায় না।
সেনাকে ‘ফ্রি হ্যান্ড’, জবাব হবে উপযুক্ত ভাষায় কূটনৈতিক দিক থেকে মোদীর কড়া অবস্থান যতটা স্পষ্ট, সীমান্তে তার প্রতিফলন আরও তীব্র। সূত্রের খবর, সেনাকে দেওয়া হয়েছে ‘ফ্রি হ্যান্ড’। সীমান্তে উসকানি দিলে শুধু গুলিতে নয়, প্রয়োজনে মর্টার বা গোলাও ব্যবহার করার ছাড়পত্র মিলেছে। গতকাল পাকিস্তান ফের সংঘর্ষবিরতি চুক্তি ভেঙেছে বলে অভিযোগ। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভারতের পালটা প্রতিক্রিয়ায় স্পষ্ট হয়ে যায়, এবার আর আগের মতো সহ্য করবে না দিল্লি। আমেরিকা দাবি করেছিল, শান্তিপ্রচেষ্টার পেছনে তাদের ভূমিকাও আছে। কিন্তু মোদীর বক্তব্যে সেই দাবি একেবারে খারিজ।
আরও পড়ুনঃ Weather update : তাপপ্রবাহে পুড়ছে দক্ষিণবঙ্গ, তীব্র গরমে হাঁসফাঁস রাজ্য, বিকেলে বৃষ্টির পূর্ভাবাস!
ANI-র রিপোর্ট অনুযায়ী, মোদী জেডি ভান্সকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন—“পাকিস্তান যদি কিছু করার চেষ্টা করে, তার জবাব হবে আরও ভয়ঙ্কর। আর আলোচনার প্রশ্নই তখন ওঠে না। আমাদের একটাই দাবি—POK ফেরানো হোক। আর এই দাবিতে কোনও তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা ভারতের দরকার নেই।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে যায়, এবার ভারত কাশ্মীর প্রসঙ্গে আপস নয়, কার্যকর পদক্ষেপেই বিশ্বাস রাখছে। শুধু কূটনীতি নয়, মাটিতে দাঁড়িয়েও সেই অবস্থানকে বাস্তব রূপ দিতে প্রস্তুত দেশ।






