Indian Pakistan conflict : জঙ্গিদের সঙ্গেই পাক অফিসার! অপারেশন সিঁদুরে পাকিস্তানের মুখোশ প্রকাশ করল ভারত!

আমাদের দেশের সাধারণ মানুষ প্রতিদিন কাজে বেরোনোর সময় জানেন, সেনাবাহিনী পাহারা দিচ্ছে বলেই তাঁরা নিরাপদ। কিন্তু সমস্যা তখনই শুরু হয়, যখন সেই শত্রু নিজের মুখ লুকিয়ে বন্ধুর মুখোশ পরে ঘোরে। কেউ সামনের দরজা দিয়ে এসে আগুন জ্বালাচ্ছে, আবার কেউ পেছনের পথ ধরে ছড়াচ্ছে বিষ। এই পরিস্থিতিতে একটা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সাধারণের মনে—পাকিস্তান কি সত্যিই সন্ত্রাসবাদের শিকার, নাকি তারই ছত্রছায়ায় বাড়ছে জঙ্গি শক্তি?

পাকিস্তান বহুবার আন্তর্জাতিক মহলে দাবি করেছে, তারা নাকি জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়ছে। অথচ বাস্তবে দেখা যাচ্ছে একেবারে উলটো ছবি। সম্প্রতি, কুখ্যাত কয়েকজন জঙ্গির মৃত্যুর পর তাদের শেষকৃত্যে দেখা গেল পাকিস্তানের সেনা ও পুলিসের শীর্ষস্থানীয় আধিকারিকদের। এমনকি উপস্থিত ছিলেন রাজনৈতিক নেতারাও। ভারত সরকার এই ঘটনা সামনে আনতেই স্পষ্ট হল, এতদিন যারা মুখে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কথা বলছিল, তারা আদতে সেই সন্ত্রাসবাদকেই আশ্রয় দিচ্ছে।

ভারতের সাম্প্রতিক সেনা অভিযান ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর পাকিস্তানের মুরিদকে এলাকায় একাধিক জঙ্গির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয়। সেখানেই উপস্থিত ছিলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল ফাইয়াজ হুসেন, মেজর জেনারেল রাও ইমরান, ব্রিগেডিয়ার মহম্মদ ফুরকান, এমনকি পঞ্জাবের বিধায়ক উসমান ওনোয়ার ও মালিক সোয়েব আহমেদও। শুধু কি তাই? ওই মৃত জঙ্গিদের মধ্যে ছিলেন লস্কর কমান্ডার আবদুল রউফের মতো নাম। এতেই স্পষ্ট, পাকিস্তানের সেনা ও প্রশাসন জঙ্গিদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে চলছে।

অপারেশন সিঁদুর’-এর আওতায় মোট ৯টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় ভারত। এর মধ্যে ৫টি পাক অধিকৃত কাশ্মীরে এবং বাকি ৪টি পাকিস্তানের মাটিতে। বাহাওয়ালপুর, মুরিদকে, সারজাল ও মেহমুনা জোয়ার মতো এলাকায় থাকা ২১টি জঙ্গি ঘাঁটি চিহ্নিত করে সেই অনুযায়ী ধ্বংস করা হয়। মুরিদকেতে খালিদ আবু আকাসা নামে এক আফগানিস্তানফেরত অস্ত্র পাচারকারী জঙ্গির মৃত্যু হয়েছে। খুবই সুনিপুণভাবে এই অভিযান চালানো হয় যাতে সাধারণ মানুষের ক্ষতি না হয়, এমনটাই জানিয়েছে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক।

আরও পড়ুনঃ Narendra Modi : ‘পাক অধিকৃত কাশ্মীর ফেরাতে হবে’, আমেরিকাকে মোদীর কড়া বার্তা! মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টকে স্পষ্ট বার্তা প্রধানমন্ত্রীর।

এয়ার মার্শাল এ কে ভারতী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, “ওরা যখন আমাদের সাধারণ মানুষের উপর আক্রমণ চালিয়েছে, তখন চুপ করে থাকা যায় না।” তিনি আরও জানান, ৭ মে ভোরে মুরিদকে অঞ্চলে একটি লাল দোতলা বাড়িকে নিশানা করে ধ্বংস করা হয়। একইসঙ্গে বাহাওয়ালপুরেও দুই জায়গায় হামলা চলে। সেই রাতে পাকিস্তান ড্রোন হামলার চেষ্টা করেছিল, তবে ভারতের জবাব ছিল আরও শক্তিশালী। এমনকি লাহোর ও গুজরানওয়ালার রাডার সিস্টেমেও আঘাত হানা হয়। এবার আর মুখোশ পড়ে থেকে লাভ নেই, কারণ ভারত বুঝিয়ে দিয়েছে—যে রক্তে আগুন জ্বলে, সে চুপ করে বসে থাকে না।

RELATED Articles