Operation sindoor : ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর জবালে পাকিস্তানে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা, নতুন পরিসংখ্যান প্রকাশ করল ইসলামাবাদ

নিদ্রা যেন ভুলে বসেছে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোর মানুষ। অন্ধকার নামতেই আতঙ্ক চেপে বসে বুকের উপর—আবার না কোথাও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়, আবার না রাতভর গোলাগুলির শব্দে কেঁপে ওঠে জনপদ। ছোট ছোট শিশুরা খড়খড় আওয়াজ শুনলেই মায়ের আঁচলে মুখ লুকোয়। চাষবাস, ব্যবসা—সব কাজ যেন স্তব্ধ। কেউ মাঠে যাচ্ছে না, কেউ দোকান খুলছে না। যুদ্ধ না হলেও যুদ্ধের আঁচ টের পাচ্ছে এ দেশের হাজার হাজার পরিবার।

নেতাদের ভাষণে বারবার বলা হচ্ছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে, কিন্তু বাস্তব বলছে অন্য কথা। পেট্রলপাম্পে লাইন, রেশন স্টোরে ভিড়, হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্সের আওয়াজ—সব মিলিয়ে যেন ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে মানুষ যুদ্ধের পরিবেশে। কেউ বলছে, “আমার ছেলে তো সীমান্তেই পোস্টিং, প্রতিদিন ভয় লাগে”, তো কেউ বলছে, “আর গোলাগুলি চাই না, শান্তি চাই।”

সম্প্রতি জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর সরাসরি পাকিস্তানকে দায়ী করে ভারত। এরপরেই ভারতীয় সেনার পক্ষ থেকে শুরু হয় ‘অপারেশন সিঁদুর’। ৬ মে মধ্যরাতে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে ঢুকে একাধিক জঙ্গিঘাঁটি চিহ্নিত করে ধ্বংস করা হয়। ভারত জানায়, মোট ৯টি জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস করা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের কোনও ক্ষতি হয়নি। কিন্তু পাল্টা অভিযোগে পাকিস্তান দাবি করে, ভারত ধর্মীয় স্থান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে, যাতে বহু সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

ভারতের অভিযানের পর পাকিস্তানও পাল্টা জবাব দেয় ‘অপারেশন বুনিয়ান-আন-মারসুস’-এর মাধ্যমে। টানা চার দিন সীমান্তে চলেছে গোলাগুলি, বিস্ফোরণ, মর্টার শেলিং। ভারতের পশ্চিম সীমান্ত এবং জম্মু-কাশ্মীর অঞ্চলে প্রাণ হাতে করে বাঁচতে হয়েছে হাজার হাজার মানুষকে। সংঘর্ষের পরে শনিবার দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও পরিস্থিতি এখনও থমথমে।

আরও পড়ুনঃ Astrology: শিব যোগের জাদু! মে মাসে রাতারাতি কপাল খুলবে ৪ রাশির, জীবনে আসবে সুখ-সমৃদ্ধি

বুধবার পাকিস্তানের ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস জানায়, ভারতীয় হামলায় আরও দু’জন সেনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গিয়েছেন। প্রথমে নিহতের সংখ্যা ছিল ১১, তা বেড়ে দাঁড়াল ১৩-তে। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন হাবিলদার মহম্মদ নাভিদ এবং বায়ুসেনার সিনিয়র প্রযুক্তিবিদ মহম্মদ আয়াজ়। পাক সংবাদমাধ্যম ‘ডন’ জানিয়েছে, এখনও ৭৮ জন সৈন্য আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পাকিস্তান স্বীকার করেছে, ছ’টি জায়গায় হামলা চালিয়েছে ভারত। যদিও মূলত টার্গেট ছিল জঙ্গিঘাঁটি, তবে ক্ষয়ক্ষতি যে আরও ব্যাপক তা একপ্রকার মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে ইসলামাবাদ।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর