রাজ্যের মানুষের অবস্থা এখন একেবারে নাজেহাল। ভ্যাপসা গরম আর আর্দ্রতা মিলে জনজীবন একপ্রকার অতিষ্ঠ। সকাল থেকেই রোদের তীব্রতা এতটাই, যে বেলা বাড়তেই ঘর ছাড়া হওয়াটাই যেন একটা বড় যুদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঘাম, গরম আর শ্বাসরুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝে একটুখানি বৃষ্টিই যেন হয়ে উঠেছে স্বস্তির একমাত্র আশা। এমন দিনে মানুষজনের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু—আবহাওয়ার আপডেট।
পাখার নীচে বসেও মিলছে না স্বস্তি। বিদ্যুৎচালিত যন্ত্রও যেন হাল ছেড়ে দিয়েছে এই গরমে। বাইরে বেরোলেই মাথা ঘোরা, ক্লান্তি আর গরমে হাঁসফাঁস করা অবধারিত। এই অবস্থায় অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের কষ্টের কথা জানিয়ে পোস্ট করছেন—“আকাশের মুখ চেয়ে আছি, ঝেঁপে নামুক বৃষ্টি”—এই আশাতেই সময় কাটছে বহু মানুষের। আবহাওয়া কেমন থাকবে? মিলবে কি স্বস্তির বৃষ্টি?
এই অস্বস্তির মধ্যেই আবহাওয়া দফতর দিল এক বড় আপডেট। বৃহস্পতিবার থেকে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বৃষ্টি হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। যদিও এখনও সকাল থেকে রোদ ঝলমলে আকাশই চোখে পড়েছে শহরে, তবে বিকেল-সন্ধ্যার দিকে পরিস্থিতি বদলাতে পারে বলে অনুমান। বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া ও পশ্চিম মেদিনীপুর—এই জেলাগুলিতে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি এবং ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার রাজ্যের বেশ কয়েকটি জেলায় কালবৈশাখীর সম্ভাবনা রয়েছে। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সঙ্গে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। এই তালিকায় রয়েছে বীরভূম, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর ও হুগলি। যদিও এই বৃষ্টি হালকা বা মাঝারি হতে পারে, তবে তা সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে।
আরও পড়ুনঃ Operation sindoor : ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর জবালে পাকিস্তানে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা, নতুন পরিসংখ্যান প্রকাশ করল ইসলামাবাদ
উত্তরবঙ্গে দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ারে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে আগামী কয়েক দিন। অন্যদিকে, কলকাতায় ১৫ থেকে ১৮ মে পর্যন্ত বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির আশঙ্কায় ‘হলুদ সতর্কতা’ জারি করা হয়েছে। বিশেষত বিকেল ও সন্ধ্যার দিকে বৃষ্টি নামতে পারে শহরে। আবহাওয়া দফতর বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। শনিবার থেকে রাজ্যের প্রায় সব জেলাতেই ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।





