যখন শহরের গরমে হাঁপিয়ে ওঠা মানুষজন এক পশলা বৃষ্টির জন্য আকাশের দিকে চেয়ে থাকেন, তখন সেই কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টিই কেউ কেউ ভয় নিয়ে দেখছেন। দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু জায়গায় ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে প্রাক বর্ষার বৃষ্টি। কোথাও ঘন কালো মেঘ, কোথাও বিজলি চমক। স্বস্তির সঙ্গে সঙ্গে মনে প্রশ্ন—এই বৃষ্টি কি শুধু আরাম দেবে, না কি আনবে নতুন কোনও বিপদ?
দেখা যাচ্ছে, সকাল থেকে রাত—আকাশ যেন হাঁ করে আছে জল ঢালার জন্য। তবে শহরের রাস্তায় জমে থাকা জলের মাঝে আর পাহাড়ের কোলে বসবাসকারী মানুষের আতঙ্কের মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাৎ। কেউ বলছেন, “এই তো আমাদের সময় এসেছে ছাতা খুলে ঘুরে বেড়ানোর।” অন্যদিকে কেউ আবার চিন্তায় বলছেন, “জানি না, এবারের বর্ষা আমাদের কি হবে!”
আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, আগামী তিনদিনের মধ্যে উত্তরবঙ্গে মৌসুমি বায়ুর প্রবেশের সম্ভাবনা প্রবল। ইতিমধ্যেই দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বাংলার দিকে ধেয়ে আসছে। অসম ও মেঘালয়ের বিভিন্ন অংশে বর্ষা পৌঁছে গিয়েছে। বর্তমান মৌসুমি অক্ষরেখা মহারাষ্ট্র থেকে শুরু করে উত্তরপূর্ব ভারতের গোয়ালপাড়া পর্যন্ত বিস্তৃত। এর ফলে দক্ষিণবঙ্গে মঙ্গলবার থেকেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকছে। ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইবে বলেও জানা যাচ্ছে।
তবে চিন্তার বিষয় শুরু হবে বুধবার থেকে। উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে যেমন পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় প্রবল বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কলকাতা ও আশেপাশে মেঘলা আকাশের মধ্যেই দফায় দফায় বৃষ্টির পূর্বাভাস মিলেছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, আপাতত উত্তরবঙ্গে বিক্ষিপ্তভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হলেও বৃহস্পতিবার থেকে সেই ছবিটা অনেকটাই বদলে যাবে। কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার ও উত্তর দিনাজপুরে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ Astrology : অমাবস্যায় মা কালীর কৃপায় ভাগ্য ফিরছে ৩ রাশির! অর্থলাভ, ক্যারিয়ারে সাফল্য ও পারিবারিক সুখের সম্ভাবনা!
সপ্তাহের শেষে পাহাড়ি এলাকায় প্রকৃতির রুদ্ররূপ দেখা যেতে পারে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে হাওয়া অফিস। প্রবল বৃষ্টিপাতের ফলে দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি সহ একাধিক পাহাড়ি জেলায় ধস নামতে পারে। একাধিক নদীর জলস্তর বাড়তে পারে। কোথাও কোথাও প্লাবনের আশঙ্কাও রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মৎস্যজীবীদের গভীর সমুদ্রে যাওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে বুধবার থেকে। শুধু তাই নয়, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার কোনওরকম সমুদ্রতট কেন্দ্রিক বিনোদনমূলক কার্যকলাপ থেকে দূরে থাকার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়ার এই পরিবর্তন স্বস্তির পাশাপাশি সতর্ক থাকার ইঙ্গিতও দিয়ে যাচ্ছে।





