Supreme Court : শেষ মুহূর্তেও সাহায্য নয়, মোবাইল ক্যামেরা হাতে ‘নির্বিকার’ স্ত্রী! হারানো মামলার পর্দা সরাতে ফের ‘কেস রিওপেন’!

যখন একজন মানুষ মানসিকভাবে এতটাই ভেঙে পড়ে যে সে নিজের জীবনটাই শেষ করে দিতে চায়, তখন তার সবচেয়ে কাছের মানুষের কাছ থেকে আশা করে একটু সান্ত্বনা, একটু ভালোবাসা, হয়তো একটা হাত ধরার আশ্বাস। কিন্তু যদি সেই ‘সবচেয়ে কাছের মানুষ’ই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তার মৃত্যুর দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করে, তখন সমাজ প্রশ্ন তোলে—এই কি আমাদের সম্পর্কের বর্তমান চিত্র? এখন কি মোবাইলের লেন্সই সবচেয়ে বেশি সক্রিয়, আর মানবতা হয়ে গিয়েছে নীরব দর্শক?

ঘটনাটা আজ থেকে চার বছর আগের। তবে সেই সময়ের মতো এখনও মানুষ বিস্মিত, স্তব্ধ। এক তরুণের আত্মহত্যার ঘটনা যেন ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছিল নথির পাহাড়ে। পরিবারের আর্তি, পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা, আদালতের গাফিলতি সব কিছু মিলিয়ে যেন বিচারের আশাই মরে গিয়েছিল। তবে হাল ছাড়েননি সন্তানের মৃতদেহ কাঁধে তোলা এক অসহায় বাবা। তাঁর লড়াইয়ের ফলেই আবার আলোয় উঠে এসেছে সেই পুরনো ঘটনা।

হাওড়ার বালিতে ২০২১ সালের এপ্রিল মাসে আত্মহত্যা করেন ৩৫ বছরের আমন সাউ। অভিযোগ, দাম্পত্য কলহের জেরে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি। কিন্তু স্ত্রীর ভূমিকা নিয়েই উঠেছে বড় প্রশ্ন। পরিবার দাবি করে, আমনের স্ত্রী নেহা শুক্লা ওই মর্মান্তিক মুহূর্তে তাঁর স্বামীকে বাঁচানোর বদলে মোবাইলে ভিডিও করেন! এই ‘নির্বিকার’ আচরণ দেখে হতবাক হয়ে পড়েছিল সমাজ। নেহার বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা হলেও, ৪০ দিনের মধ্যে জামিনে মুক্ত হয়ে যান তিনি। এরপরই কোথাও হারিয়ে যায় গোটা মামলা।

ছেলের অস্বাভাবিক মৃত্যুর পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে যান আমনের বাবা জগন্নাথ সাউ। বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ বালি থানার কাছে কেস ডায়েরি ও প্রমাণপত্র তলব করলেও পুলিশের পক্ষ থেকে কোনও রিপোর্ট দাখিল হয়নি বলে অভিযোগ। সেই প্রেক্ষিতে এবার সুপ্রিম কোর্টে যান জগন্নাথবাবুর আইনজীবীরা। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি আহসানউদ্দিন আমানুল্লাহ ও বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্রর বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, মামলাটি যেন ফের হাই কোর্টে উত্থাপন করা হয় এবং প্রধান বিচারপতি যেন উপযুক্ত ব্যবস্থা নেন।

আরও পড়ুনঃ Weather update : বৃষ্টিতে স্বস্তি নয়! তিনদিনের মধ্যে উত্তরবঙ্গে বর্ষা প্রবেশ, কী বলছে হাওয়া অফিস?

নেহার বিরুদ্ধে তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ তুলে এবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে দিয়ে তদন্ত চেয়ে আবেদন জানানো হয়েছে। আমনের পরিবারের দাবি, বিয়ের কয়েক মাসের মধ্যেই নেহার সঙ্গে এক যুবকের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক শুরু হয়, যার জেরে দাম্পত্যে চরম অশান্তি তৈরি হয়। প্রায়শই পার্টি করে দেরি করে বাড়ি ফেরা, জোর করে টাকা আদায়, এমন নানা অভিযোগ উঠেছে নেহার বিরুদ্ধে। ২০২১ সালের সেই রাতে চরম অশান্তির পরেই আমন আত্মঘাতী হন। বাবার দাবি, “আমার ছেলে মরেনি, তাকে মারতে বাধ্য করা হয়েছে।” এখন সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে নতুন করে মামলাটি পুনরুজ্জীবিত হওয়ায় বিচার পাওয়ার আশায় বুক বেঁধেছে সাউ পরিবার।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles