বাঙালি মানেই পড়াশোনায় সেরা—এই চেনা ভাবনার আরও একবার সত্যতা প্রমাণ করলেন তিন বঙ্গসন্তান। বিশ্বে অন্যতম কঠিন পদার্থবিদ্যার আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অসামান্য কৃতিত্ব অর্জন করেছেন তাঁরা। সাধারণত উচ্চতর গণিত ও পদার্থবিদ্যার প্রতি ভালোবাসা থেকেই তৈরি হয় এমন স্বপ্নের ভিত্তি। কিন্তু সেই স্বপ্নকে বাস্তব করে তুলতে গেলে প্রয়োজন আত্মনিবেদন, অধ্যবসায় এবং দৃষ্টান্তমূলক মেধা। এবারে ঠিক তেমনটাই করে দেখালেন সুস্মিত রায়, অভীক দাস এবং ঋতব্রত ঘোষ। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন সিমর নারুলাও। চারজন মিলে ইতিহাস গড়লেন ভারতের জন্য।
‘ফিজিক্স লিগ অ্যাক্রস নিউমেরাস কান্ট্রিস অফ কিক-অ্যাস স্টুডেন্ট’ (PLANCKS) নামের এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন হয়েছিল স্পেনের বার্সেলোনায়। রয়্যাল স্প্যানিশ সোসাইটি অফ ফিজিক্স এবং ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অফ ফিজিক্সের উদ্যোগে আয়োজিত হয় এই পরীক্ষা। এটিকে স্নাতক স্তরের অন্যতম কঠিন পদার্থবিদ্যা পরীক্ষা বলে ধরা হয়। ২০২৫ সালে এই পরীক্ষার দ্বাদশ সংস্করণে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করে আইআইএসসি বেঙ্গালুরুর একটি চার সদস্যের দল। সেই দলই এবার বিশ্বের মধ্যে ষষ্ঠ স্থান অর্জন করে, যা ভারতের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
এই আইআইএসসি দলের তিন সদস্যই ছিলেন বাঙালি—সুস্মিত রায়, অভীক দাস ও ঋতব্রত ঘোষ। অভীক মাধ্যমিকে ২০২২ সালে রাজ্যে চতুর্থ এবং ২০২৪ সালের উচ্চমাধ্যমিকে প্রথম হন। জয়েন্টে সপ্তম এবং জেইই অ্যাডভান্সড পরীক্ষায় ৬৯ তম স্থান দখল করেছিলেন। অন্যদিকে, সুস্মিত পড়াশোনা করেছেন কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ে, আর ঋতব্রত পড়তেন নদিয়ার চাকদার সতীশচন্দ্র মেমোরিয়াল স্কুলে। তিনজনই একাধিক সর্বভারতীয় প্রতিযোগিতায় নজরকাড়া সাফল্য পেয়েছেন।
চার পড়ুয়ার দলটি কেবল ভারতকে বিশ্বদরবারে পরিচিত করাননি, বরং এক নজির তৈরি করেছেন। আগে কখনও এই প্রতিযোগিতায় ভারত এত উঁচু র্যাঙ্ক পায়নি। PLANCKS-এ অংশগ্রহণ করা মানেই বিশ্বসেরা পদার্থবিদ্যার মেধাবীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা। সেই জায়গায় ভারতের ষষ্ঠ স্থান দখল শুধু তাৎপর্যপূর্ণই নয়, বরং ভবিষ্যতের জন্য অনুপ্রেরণাও।
আরও পড়ুনঃ Breaking News : অবশেষে পুলিশের জালে! গল্ফগ্রিন থেকে গ্রেফতার পর্নোগ্রাফি চক্রের মাথা আরিয়ান!
এই অসাধারণ সাফল্যে অভিনন্দন জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “ঋতব্রত, সুস্মিত ও অভীক আমাদেরই ছেলে। ওদের সাফল্যে রাজ্যবাসী গর্বিত। অভীক তো মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও জয়েন্টে দুর্দান্ত ফল করেছে। অন্য দুই ছাত্রও একইভাবে বাংলার মুখ উজ্জ্বল করেছে।” সেইসঙ্গে পড়ুয়াদের অভিভাবক, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। তাঁর বার্তা, “আমাদের ছেলেমেয়েরা আগামী দিনেও যেন এমন আন্তর্জাতিক সাফল্য এনে দেয়, এই কামনা করি।”





