বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে রবিবারে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও চড়ল বাংলায়। এই আবহেই উত্তর ২৪ পরগনার ঠাকুরনগরে প্রচারে এসে বড় বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মতুয়া সম্প্রদায়ের ভোটকে সামনে রেখে তাঁর বক্তব্যে উঠে এল নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ঐতিহাসিক বাণী, আর সেই সুরেই তিনি রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করলেন।
রবিবারের কর্মসূচির শুরুতেই ঠাকুরনগরের ঠাকুরবাড়িতে প্রণাম জানিয়ে প্রচার শুরু করেন মোদি। এরপর জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে নেতাজির বিখ্যাত আহ্বান ‘তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব’ উদ্ধৃত করেন তিনি। সেই প্রসঙ্গ টেনেই মোদি বলেন, “আপনারা আমাকে ভোট দিন, আমি আপনাদের তৃণমূল শাসন থেকে স্বাধীনতা দেব।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে।
জনসভা জুড়ে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দাবি, রাজ্যে মহিলাদের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি প্রতারণা করেছে বর্তমান সরকার। “তৃণমূলের সিন্ডিকেট রাজের সবচেয়ে বড় শিকার বাংলার মা-বোনেরা,”এই মন্তব্য করে তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি আর বরদাস্ত করা হবে না। পাশাপাশি ‘মা-মাটি-মানুষ’ স্লোগানকে কটাক্ষ করে মোদি বলেন, এখন আর সেই কথা উচ্চারণ করে না তৃণমূল, কারণ তা বললেই তাদের “পাপ” সামনে চলে আসবে।
নারী নিরাপত্তার প্রসঙ্গ তুলে সন্দেশখালি এবং আরজিকরের ঘটনাও উল্লেখ করেন মোদি। তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যে আইনশৃঙ্খলার অবস্থা ভেঙে পড়েছে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাঁর কথায়, “দুর্নীতি, অসুরক্ষা এবং বেকারত্ব থেকে মুক্তি দিতে পারে একমাত্র বিজেপি সরকার।” একইসঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ক্ষমতায় এলে ‘বেছে বেছে হিসেব নেওয়া হবে’, যা রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।
মতুয়া ভোটব্যাঙ্ককে গুরুত্ব দিয়ে এদিন নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) নিয়েও বড় ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে এবং তাঁদের স্থায়ী ঠিকানা ও প্রয়োজনীয় সমস্ত নথিপত্র নিশ্চিত করা হবে। “এটা মোদীর গ্যারান্টি,” এই বার্তাই তিনি জোর দিয়ে তুলে ধরেন। ফলে ভোটের আগে এই প্রতিশ্রুতি কতটা প্রভাব ফেলবে, এখন সেটাই দেখার।






‘ভগবান শুধু আশা দেন, কাজ কিছুই করেন না!’ ঈশ্বরকে নিয়ে বিস্ফো’রক জাভেদ আখতার