বৃহস্পতিবার সকালে সন্তোষপুরের রাস্তায় বেরিয়ে কেউ আন্দাজও করতে পারছেন না, ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগে কী ভয়াবহ ঘটনা ঘটে গিয়েছে এই এলাকায়। চারিদিকে সুনসান পরিবেশ, দোকানপাট বন্ধ, চোখে পড়ে শুধু পুলিশ আর নিরাপত্তাবাহিনীর টহল। স্থানীয়রা বলছেন, এতটা উত্তেজনা বহুদিন পরে দেখল এই অঞ্চল। বুধবার সন্ধ্যাবেলায় ঘটে যাওয়া ঘটনাটি গোটা এলাকা জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। হিংসা, পুলিশের উপর হামলা, বাজারে ভাঙচুর—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ছিল রীতিমতো রণক্ষেত্রের মতো।
রবীন্দ্রনগর থানা এলাকার কিছু মানুষ জানান, দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় দুই গোষ্ঠীর মধ্যে টানাপোড়েন চলছিল। সেই উত্তেজনার বহিঃপ্রকাশ ঘটে বুধবার। সন্ধ্যার দিকে আচমকাই দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়, দ্রুত তা মারামারিতে রূপ নেয়। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়ে ওঠে যে পুলিশের হস্তক্ষেপ করতে হয়। কিন্তু তারা পৌঁছতেই শুরু হয় ইটবৃষ্টি। একাধিক পুলিশকর্মী আক্রান্ত হন, আহত হন এক মহিলা পুলিশকর্মীও। আতঙ্কে দিশেহারা হয়ে পড়েন সাধারণ মানুষ।
ঘটনার ভয়াবহতা শুধু রাস্তায় আটকে থাকেনি। পুলিশ যখন ব্যস্ত সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে, ঠিক তখনই আক্রা ফটক বাজারে ঢুকে পড়ে কিছু দুষ্কৃতী। দোকানে ভাঙচুর চালানো হয়, লুঠ হয় বিভিন্ন সামগ্রী। এমনকী বাজারে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরাও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় যাতে অপরাধের প্রমাণ মুছে ফেলা যায়। বৃহস্পতিবার সকালে গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ দোকান বন্ধ। বাজারে যাঁরা প্রতিদিন আসেন, তাঁরাও ভয়ে আসেননি। দোকানদারদের চোখে মুখে আতঙ্ক স্পষ্ট।
ঘটনার জেরে কলকাতা পুলিশ এবং পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে বুধবার রাতেই মোট আঠারো জনকে গ্রেফতার করে। কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে ধরা হয়েছে চোদ্দ জনকে এবং রাজ্য পুলিশের তরফে গ্রেফতার করা হয়েছে আরও চার জনকে। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতদের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে—সরকারি কর্মীর উপর হামলা, হিংসা ছড়ানো, এবং লুঠতরাজের অভিযোগে। গোটা ঘটনায় তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।
আরও পড়ুনঃ Weather update : শুক্রবার থেকে ঝড়-বৃষ্টির তাণ্ডব! স্বস্তির মধ্যেই রাজ্যে জারি হল হলুদ সতর্কতা!
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই এলাকাজুড়ে কড়া নজরদারি চালাচ্ছে পুলিশ। রবীন্দ্রনগর থানা সংলগ্ন প্রতিটি পয়েন্টে মোতায়েন করা হয়েছে র্যাফ ও কমব্যাট ফোর্স। সঙ্গে জারি করা হয়েছে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৬৩ ধারা, যার মাধ্যমে কোনও ধরনের জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। দোকানপাট আপাতত বন্ধ। স্থানীয়রা ঘর থেকে না বেরনোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত টহল ও নজরদারি জারি থাকবে।





