ভোটের ঠিক আগেই ভোটার তালিকা ও ট্রাইবুনাল সংক্রান্ত ইস্যুতে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হল রাজ্যে। মধ্যরাতে প্রকাশিত সাপ্লিমেন্টারি তালিকাকে ঘিরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে নানা মহলে। মাত্র ১৩৬ জনের নাম তালিকায় থাকার ঘটনায় বাকি আবেদনকারীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা। এই পরিস্থিতিতে বিষয়টি পৌঁছেছে আদালতে, যা নির্বাচনের আবহে আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এই ইস্যুতে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে কলকাতা হাইকোর্টে। আইনজীবী ঝুমা সেন এই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, বিপুল সংখ্যক আবেদনকারীর নাম বাদ পড়েছে, অথচ মাত্র ১৩৬ জনের নামই তালিকায় স্থান পেয়েছে। ফলে যাঁরা তালিকায় জায়গা পাননি, তাঁদের ভবিষ্যৎ কী হবে,সেই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে বড় হয়ে উঠেছে। জানা গিয়েছে, এই মামলার শুনানি প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে হওয়ার কথা।
এদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই আরও একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে। প্রথম মামলাটি করেছিলেন শেখ আনোয়ার আলি, তাঁর অভিযোগ, বিশেষ প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় প্রায় ২৭ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এই বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়া নিয়েই তৈরি হয়েছে চরম বিতর্ক এবং উদ্বেগ। নির্বাচনের মুখে এমন ঘটনা ভোটের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বলেই মনে করছেন অনেকে।
মামলাকারীদের আরও অভিযোগ, এই গোটা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। ১৯টি ‘অ্যাপেলেট ট্রাইব্যুনাল’ গঠন করা হলেও সেগুলির কার্যপদ্ধতি পরিষ্কার নয়। সাধারণ ভোটাররা জানতেই পারছেন না কীভাবে আবেদন করতে হবে, বা তাঁদের আবেদন কীভাবে বিবেচিত হবে। এমনকি শুনানির তারিখ কীভাবে জানানো হবে বা আইনজীবীর মাধ্যমে প্রতিনিধিত্ব করা যাবে কি না,এই বিষয়গুলো নিয়েও স্পষ্ট নির্দেশিকা নেই বলে অভিযোগ উঠেছে।
আরও পড়ুনঃ নন্দীগ্রামে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ঘিরে তৃণমূলের গুরু*তর অভিযোগ, আহতের ছবি পৌঁছল কমিশনে, তবে কি সত্যিই ভয় দেখানো হচ্ছে ভোটারদের, নাকি ভোটের আগে নতুন করে তৈরি হচ্ছে বিতর্কের মঞ্চ?
সব মিলিয়ে ভোটের প্রাক্কালে এই বিতর্ক নতুন করে চাপ বাড়িয়েছে প্রশাসনের উপর। একদিকে আদালতে মামলার শুনানি, অন্যদিকে লক্ষ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়ার অভিযোগ এই দুইয়ের মাঝে সাধারণ ভোটারদের উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। এখন নজর আদালতের রায়ের দিকে, কারণ এই মামলার সিদ্ধান্তই ঠিক করে দিতে পারে বহু মানুষের ভোটাধিকার সংক্রান্ত ভবিষ্যৎ।





