দীর্ঘদিন ধরেই তিনি ছিলেন রাজ্যের রাজনৈতিক চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে। বিচারপতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে রাজনীতির ময়দানে পা রাখা সেই ব্যক্তিত্বই এবার চিকিৎসার প্রয়োজনে পৌঁছেছেন রাজধানী শহরে। চিকিৎসকদের কড়া পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে তাঁকে, স্থির সিদ্ধান্ত— দীর্ঘ সময় হাসপাতালে থেকেই চলবে চিকিৎসা। দলও তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছে সর্বাত্মকভাবে।
বিজেপির তমলুকের বর্তমান সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় শারীরিক অসুস্থতার কারণে কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন বেশ কিছু দিন ধরে। হঠাৎ করেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টে নাগাদ তাঁকে গ্রিন করিডর করে নিয়ে যাওয়া হয় দমদম বিমানবন্দরে। এরপর সন্ধে ৫:৩৫ মিনিটে একটি বিমানে করে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় দিল্লির এমস হাসপাতালে। সেখানে তাঁকে ভর্তি করা হয়েছে আইসিইউতে, চিকিৎসকদের নজরদারিতে চলছে গভীর পর্যবেক্ষণ।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় আক্রান্ত হয়েছেন অ্যাকিউট প্যানক্রিয়াটাইটিস (Acute Pancreatitis) এবং গ্যাস্ট্রোইনটেস্টিন্যাল সেপসিসে (Gastrointestinal Sepsis)। এই দুটি জটিল শারীরিক সমস্যা কাটিয়ে উঠতে হলে তাঁকে অন্তত দু’-তিন মাস হাসপাতালে থাকতে হতে পারে। চিকিৎসার প্রথম ধাপে পরিস্থিতি আপাতত স্থিতিশীল হলেও, সামনে রয়েছে দীর্ঘ সময়ের চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ। কলকাতা হাই কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতির শারীরিক পরিস্থিতি ঘিরে উদ্বিগ্ন রাজনৈতিক মহল।
এই কঠিন সময়ে দলের তরফ থেকেও নেওয়া হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নড্ডা এবং সংসদীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু ব্যক্তিগতভাবে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের চিকিৎসার বিষয়টি নজরে রাখছেন। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাও নিয়মিত রিপোর্ট নিচ্ছেন। লোকসভার সচিবালয় নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এমসের সঙ্গে। তমলুকের প্রাক্তন সাংসদ দিব্যেন্দু অধিকারীকে এবং বিষ্ণুপুরের বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁকে দিল্লিতে থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ Muslim Vote Impact 2026: ‘তৃণমূলের এই দ্বিচারিতা মুসলিমরা মেনে নেবে না’— কটাক্ষ ত্বহা সিদ্দিকির, ২০২৬ ভোটে বিপদের আভাস!
শুক্রবার রাতে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ফোনে কথা বলেন দিল্লির চিকিৎসকদের সঙ্গে। চিকিৎসকরা জানান, পরিস্থিতি এখন স্থিতিশীল এবং পর্যায়ক্রমে উন্নতির দিকে যাবে বলেই আশা করছেন তাঁরা। শুভেন্দু বলেন, “আমরা আশাবাদী, অভিজিতবাবু আগামী দু’-তিন মাসের মধ্যে স্বাভাবিক কাজকর্মে ফিরতে পারবেন।” ইতিমধ্যে সাংসদের ভাইপো ও ব্যক্তিগত সহকারী দিল্লিতে রয়েছেন। শনিবার দিল্লি যাচ্ছেন তাঁর ভাইও। পরিবার, দল, চিকিৎসক— সকলেই এখন একসঙ্গে লড়ছেন অভিজিতবাবুর দ্রুত আরোগ্যের লক্ষ্যে।





