দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতির জমিতে যেন ফের নতুন করে পাক খাচ্ছে অশান্তির মেঘ। বিশেষত পদ্মাপাড়ে রাজনৈতিক পালাবদলের পর যেন বদলাচ্ছে সব হিসেবনিকেশ। দীর্ঘদিন ধরে ‘ভারতবন্ধু’ হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ এখন যেন এক নতুন কূটনৈতিক ছকের দিকে এগোচ্ছে। সেই ছকে চিন ও পাকিস্তানের ছায়া ক্রমশ ঘন হচ্ছে ঢাকার উপর। সম্প্রতি তিন দেশের প্রথম ত্রিপাক্ষিক বৈঠক ভারতীয় কূটনৈতিক মহলে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বুধবার চিনের ইউনান প্রদেশের রাজধানী কুনমিংয়ে বসেছিল এই ত্রিপাক্ষিক বৈঠক। অংশ নিয়েছিলেন বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও চিনের বিদেশ সচিবরা। বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল—ব্যবসা, বিনিয়োগ, স্বাস্থ্য, জলসম্পদ সহ একাধিক ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার পথ খোঁজা। বৈঠকের পরেই বেজিং ও ইসলামাবাদ যৌথ বিবৃতি দিয়ে জানায়, তিন দেশ বহুমুখী সহযোগিতার জন্য সম্মত হয়েছে। যদিও দাবি করা হয়, এই জোট কোনও তৃতীয়পক্ষের বিরুদ্ধে নয়। তবে ভারতের কূটনৈতিক শিবিরের প্রশ্ন—তাহলে কেন এই ত্রিপাক্ষিকতা এখন?
বিশেষজ্ঞদের দাবি, বাংলাদেশে শেখ হাসিনার বিদায়ের পরেই ধাপে ধাপে কূটনৈতিক অভিমুখ ঘুরেছে। নতুন শাসনের ছায়ায় ভারত-বিরোধিতা যেন নতুন মাত্রা পেয়েছে। এই অবস্থায় চিন সেখানে নিজের প্রভাব বিস্তার করতে চাইছে। কুনমিং বৈঠকের ফাঁকে চিনের উপ-বিদেশমন্ত্রী সান ওয়েইডং আলাদা করে বৈঠক করেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন বিদেশসচিব রুহুল আলম সিদ্দিকী ও পাকিস্তানের অতিরিক্ত সচিব ইমরান আহমেদের সঙ্গে। এতে স্পষ্ট, আলোচনার পর্দার আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে আরও বড় ছক।
চিন সফরে গিয়েই বিতর্ক উসকে দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস। সোজাসাপ্টা ভাষায় তিনি বলেন, “ভারতের পূর্বের সাতটি রাজ্য সমুদ্রপথ থেকে বিচ্ছিন্ন। বাংলাদেশই হল সেই অঞ্চলের সমুদ্র-দ্বার। ফলে চিনা অর্থনীতি ও প্রভাব সেই অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তেই পারে।” বিশ্লেষকদের মতে, এ বক্তব্য ভারতের অখণ্ডতা ও নিরাপত্তার দিক থেকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। এটি যে কেবল একটি অর্থনৈতিক মন্তব্য নয়, বরং একটি রাজনৈতিক ইঙ্গিত—তা মেনে নিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরাও।
আরও পড়ুনঃ Delhi AIIMS : দিল্লির হাসপাতালে অভিজিতের চিকিৎসা তদারকিতে নড্ডা-রিজিজু, সাহায্যে সৌমিত্র-দিব্যেন্দু!
এই পুরো পরিস্থিতি থেকেই স্পষ্ট, পাকিস্তান-চিনের সঙ্গে আঁতাঁত করে বাংলাদেশ এক নতুন ভূরাজনৈতিক সম্পর্ক গড়তে চাইছে, যার লক্ষ্য ভারতকে চাপের মুখে ফেলা। যদিও চিন তাদের বিবৃতিতে দাবি করেছে—বাংলাদেশ ও পাকিস্তান তাদের ‘ভালো প্রতিবেশি’, এবং তিন দেশের সম্পর্ক শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনবে। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি অন্য কথা বলছে। বাংলাদেশের পাল্টে যাওয়া ভূমিকায় চিনের আগ্রাসী কূটনীতি ও পাকিস্তানের অন্ধ ভারত-বিরোধিতা একত্রিত হয়ে ভারতের সামনে এক জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে। পদ্মাপাড়ের এই বদল যে দিল্লির মাথাব্যথার অন্যতম কারণ হয়ে উঠছে, তা বলাই বাহুল্য।





