বর্তমানে ইন্টারনেট আর ডিজিটাল লেনদেন আমাদের জীবনকে যেমন সহজ করেছে, তেমনই পাল্লা দিয়ে বেড়েছে সাইবার অপরাধও। শুধু ফোন বা ভিডিও কলেই নয়, বিভিন্ন সরকারি সংস্থার নাম ভাঙিয়ে মানুষকে ভয় দেখিয়ে টাকা হাতানোর প্রবণতা বাড়ছে উদ্বেগজনক হারে। কলকাতার এক অভিজাত নাগরিক হঠাৎই এমনই এক ভয়ঙ্কর প্রতারণার শিকার হয়েছেন। তাঁর কাছ থেকে প্রতারকেরা একবারে প্রায় ৩ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়। কীভাবে এমন প্রতারণা? তদন্তে নেমে পুলিশ যা পেয়েছে, তাতে আঁতকে উঠছেন সকলে।
ঘটনার সূত্রপাত একটি ফোন কল থেকে। নিজেকে পুলিশ অফিসার পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি ফোন করে জানায়, অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে তিনি একটি ওয়েবসাইটে পর্নোগ্রাফিক ভিডিও আপলোড করেছেন। এই অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে আর্থিক জালিয়াতির মামলা দায়ের হবে এবং তাঁকে গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠানো হতে পারে। আরও ভয় দেখিয়ে জানানো হয়, TRAI-এর নিয়ম অনুযায়ী তাঁর মোবাইল নম্বরও বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। হঠাৎ এমন হুমকির মুখে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন ওই ব্যক্তি।
গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর মাসের মধ্যে ভয় আর চাপে পড়ে ওই ব্যক্তি নিজের ফিক্সড ডিপোজিট ভেঙে প্রতারকদের দেওয়া একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাতে বাধ্য হন। পর্যায়ক্রমে টাকা পাঠানোর পর যখন সবটাই কৌশল বলে বুঝতে পারেন, তখন দেরি হয়ে গেছে অনেকটাই। লালবাজারের সাইবার থানায় অভিযোগ দায়েরের পরেই তদন্তে নামে পুলিশ।
তদন্তে নেমে পুলিশ চাঞ্চল্যকর তথ্যের হদিস পায়। ধৃত দুই অভিযুক্ত হলেন কুন্দন মিশ্র এবং দেবযানী নাগ বিশ্বাস। তাঁরা শিলিগুড়ির বাসিন্দা। কুন্দন নিজেকে জলপাইগুড়ি আদালতের আইনজীবী বলে দাবি করেছে এবং দেবযানী শিলিগুড়ি পুরসভার কেরানি। ধৃতদের কাছ থেকে একটি ল্যাপটপ, তিনটি মোবাইল ফোন ও একাধিক ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। অভিযুক্তদের স্থানীয় আদালতে পেশ করে ট্রানজিট রিমান্ডে কলকাতায় আনা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ Pakistan : ভাঙনের মুখে পাকিস্তান! খাইবার-পাঞ্জাবকে পৃথক করার প্রস্তাবে তীব্র চাঞ্চল্য!
তদন্তে উঠে এসেছে, প্রতারকরা সিবিআই, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট, সুপ্রিম কোর্ট এমনকি আরবিআইয়ের নাম করে নকল নথি তৈরি করে অভিযোগকারীকে ভয় দেখাত। অভিযোগকারী যাতে কোনওভাবেই সন্দেহ না করেন, সেই জন্য এসব সরকারি সংস্থার সিল ও লোগো লাগিয়ে কাগজপত্র বানানো হয়। এমনকি মেল এবং মেসেজের মাধ্যমেও ভুয়ো আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। পুলিশ মনে করছে, এই প্রতারণা চক্রে আরও কেউ জড়িত থাকতে পারে। তদন্ত চলছে জোরকদমে।





