Kalyan Banerjee : ‘৪০ বছরের সংসার ভেঙেছেন!’ মহুয়াকে ব্যক্তিগত আক্রমণে কল্যাণ, কসবা কাণ্ড ঘিরে তৃণমূলের অন্দরে উত্তেজনা!

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের পুরনো সংঘাত যেন ফের উসকে উঠল। কসবা ল কলেজে এক ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনীতিতে ইতিমধ্যেই তীব্র চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। এবার সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই দলের দুই সাংসদের মধ্যে প্রকাশ্যে ব্যক্তিগত স্তরে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে উত্তাল হয়ে উঠল রাজনৈতিক মহল। একদিকে তৃণমূলের কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র, অপরদিকে শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

কসবা গণধর্ষণ কাণ্ডে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য ঘিরে চরম বিতর্ক তৈরি হয়। মহুয়া নাম না করে এক্স (প্রাক্তন টুইটার)-এ তীব্রভাবে সমালোচনা করেন দলেরই এই প্রবীণ নেতার। যদিও প্রথমে সরাসরি মহুয়ার নাম না নিয়ে কল্যাণ পালটা প্রতিক্রিয়া দেন, পরে রবিবার সকালে এক চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করে বসেন তিনি। বলেন, “হানিমুন কাটিয়ে দেশে ফিরেই আমার সঙ্গে ঝামেলা শুরু করেছে।” এখানেই থেমে থাকেননি কল্যাণ।

এবার আর পরোক্ষ নয়, সরাসরি ব্যক্তিগত আক্রমণের পথ বেছে নিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেন, “উনি আমায় নারীবিদ্বেষী বলছেন? তাহলে উনি নিজে কী? ৪০ বছরের এক সংসার ভেঙেছেন, ৬৫ বছরের একজনকে বিয়ে করেছেন। উনি বুঝি সেই মহিলার জীবন ধ্বংস করেননি?” এর পরেই আরও এক বিস্ফোরক মন্তব্য, “নিজের কেন্দ্রের মহিলা নেতানেত্রীদের বিরুদ্ধেই কথা বলেন। শুধু নিজের ভবিষ্যৎ গড়তেই জানেন, আর জানেন কিভাবে টাকা কামাতে হয়।”

শুধু ব্যক্তিগত জীবন নয়, মহুয়ার রাজনৈতিক কেরিয়ার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন কল্যাণ। জানান, “২০১৬ সালে উনি তৃণমূলে এসেছেন, তার বহু আগে দল ক্ষমতায় এসেছে। রাহুল গান্ধীকে বন্ধু বলে রাজনৈতিক সফর শুরু করেছিলেন।” এমনকি একটি উপনির্বাচনের প্রচারে যেতে গিয়ে কীভাবে মহুয়া স্থানীয় নেতৃত্বকে তাঁকে বাধা দিতে বলেছিলেন, সে ঘটনাও তুলে ধরেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও নাকি বিষয়টি জানিয়েছিলেন কল্যাণ।

আরও পড়ুনঃ Kasba rape case : “খুব বেশি হলে আমায় খু*ন করবে” — কসবা কাণ্ডে ন্যায়বিচারের লড়াইয়ে অনড় নির্যাতিতার প্রাক্তন শিক্ষক তথা আইনজীবী, তাঁর কথাতেই স্পষ্ট চাপের ইঙ্গিত!

তৃণমূল মহলে অনেকেই বলছেন, এই বিতর্ক একদিনের নয়। এর আগেও গত এপ্রিলে এক প্রবীণ সাংসদের আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ত্যাগ করেন এক মহিলা সাংসদ। তখনও গুঞ্জন ছিল, সেই অভিযোগের তির ছিল কল্যাণের দিকেই। যদিও প্রকাশ্যে কেউ কারও নাম বলেননি। কসবা কাণ্ড সেই পুরনো আগুনেই যেন ঘি ঢেলে দিল। মহুয়ার বক্তব্য, “নারীবিদ্বেষ রাজনৈতিক দলের গণ্ডিতে আটকে নেই, কিন্তু তৃণমূল এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়।” তবে কল্যাণের এই জবাবের পরে দলীয় অন্দরের পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেদিকেই এখন নজর রাজনীতির।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles