কসবার আইন কলেজের ছাত্রীর গণধর্ষণের ঘটনায় নাম জড়ানোর পর থেকেই ক্রমে একের পর এক ভয়াবহ অভিযোগ উঠছে অভিযুক্ত মনোজিৎ মিশ্রের বিরুদ্ধে। শুধুই কি নির্যাতিতা ছাত্রী? না, শুধু সেই নয়—এখন সামনে আসছে মনোজিতের বান্ধবীদের অভিজ্ঞতাও। যে কোনও মেয়ের দিকে তাকালেই অস্বস্তি হতো, ক্যাম্পাসে ছাত্রীদের ‘হান্ট’ করাই ছিল তার শখ! এমনকি নিজের বান্ধবীকেও তার বিকৃত মানসিকতার শিকার হতে হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠছে।
কলেজ সূত্র জানাচ্ছে, মনোজিৎ নিজের ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিয়ো তুলে তা বন্ধুদের দেখাত। সেই বান্ধবীও একসময় তার শিকার হয়েছিলেন। কয়েক বছর আগে কোনওভাবে সেই ভিডিয়ো ফাঁস হয়ে যাওয়ায় তাঁদের সম্পর্কে ফাটল ধরে। শুধু তাই নয়, সে ক্যাম্পাসে নতুন মেয়েদের দেখলেই বলত, “তুই আমায় বিয়ে করবি?” — এভাবেই কথা বলা শুরু করত অভিযুক্ত।
আরজি কর হাসপাতালে যৌন হেনস্থার প্রতিবাদে কলেজ থেকে যারা ‘রাত দখল’-এ যোগ দিয়েছিল, তাদের ওপর হুমকি, মারধরের অভিযোগও উঠেছে মনোজিতের বিরুদ্ধে। কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও কেউ কিছু করতে পারেনি বলে অভিযোগ ছাত্রছাত্রীদের একাংশের।
মনোজিৎ মিশ্র কলেজ চত্বরে একাধিক সময়ে নেশার আসর বসাত বলে জানা গিয়েছে। তার ঘনিষ্ঠদের দাবি, সে সহপাঠী ছাত্রদের দিয়ে ছাত্রীদের শরীরের আপত্তিকর ছবি তুলিয়ে সেগুলো দেখত ও শেয়ার করত। এমনকি, কার কতজনের সঙ্গে সম্পর্ক হয়েছে, তারও হিসেব রাখত সে।
আরও পড়ুনঃ Kalyan Banerjee : ‘৪০ বছরের সংসার ভেঙেছেন!’ মহুয়াকে ব্যক্তিগত আক্রমণে কল্যাণ, কসবা কাণ্ড ঘিরে তৃণমূলের অন্দরে উত্তেজনা!
২০২২ সালেই ছাত্রীরা একজোট হয়ে মনোজিতের বিরুদ্ধে কলেজে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিলেন। এমনকি তার বিরুদ্ধে কসবা, যাদবপুর, গড়িয়াহাট থানায় অপহরণ, শ্লীলতাহানি, মারধরের একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। কিন্তু কোথাও কোনও পদক্ষেপ হয়নি। তার প্রভাব এতটাই ছিল, অভিযোগ উঠলেও প্রশাসন মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল।





